যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই—শিশুদের সরল দাবি

চট্টগ্রামের ডিসি হিলের সামনে বৌদ্ধ মন্দির সড়কে অনুষ্ঠিত হয় যুদ্ধবিরোধী মানববন্ধন
চট্টগ্রাম নগরীর ফুলকি প্রাঙ্গণে চলছে তিন দিনব্যাপী ছোটদের বৈশাখী মেলা। মেলার দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয় যুদ্ধবিরোধী মানববন্ধন।
আজ সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের ডিসি হিলের সামনে বৌদ্ধ মন্দির সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক শিশু, অভিভাবক ও শিক্ষক অংশ নেন।
‘বিশ্বের প্রতি সাতজন শিশুর মধ্যে একজন যুদ্ধকবলিত অঞ্চলে বসবাস করছে। সামরিক খাতে যে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে, তা দিয়ে শত শত স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণ সম্ভব। আমাদের রক্তে পৃথিবী রাঙাবেন না—আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা নিরাপদ বিশ্ব চাই।’ফুলকি সহজপাঠ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্যোগে আয়োজিত বৈশ্বিক যুদ্ধবিরোধী মানববন্ধনে এমনই মানবিক আহ্বান জানানো হয় শিশুদের পক্ষ থেকে।
মানববন্ধনে শিশুদের হাতে যুদ্ধবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল—‘যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই’, ‘শিশুসহ সকলের জন্য শান্তিপূর্ণ পৃথিবী চাই’, ‘বোমা নয়, খাবার দাও’, ‘শিশুদের নিরাপদ বিশ্ব দাও’ ইত্যাদি স্লোগান।
শিশুদের পাশাপাশি মানবন্ধনে বক্তব্য দেন ফুলকির ট্রাস্টি ও শিক্ষকরা। ফুলকি ট্রাস্টের সভাপতি আবুল মোমেন বলেছেন, “যুদ্ধের মধ্যে শান্তির বার্তা নিয়েই আমাদের এই আয়োজন। গাজায় ভয়াবহ সংঘাতে বহু মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। বিভিন্ন দেশে স্কুলে হামলায় শিশুর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা মানবতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তি চাই।”
সর্বাধ্যক্ষ শীলা মোমেন বলেছেন, “আজ পৃথিবী নানা যুদ্ধবাজ শক্তির কবলে। পৃথিবীর সব শিশুই সমান। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। যুদ্ধ বন্ধ করে শিশুদের জন্য গড়ে তুলতে হবে নিরাপদ পৃথিবী।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখে শিক্ষার্থী সদ্য সদাব্রতী, অদ্বিতীয়া রাজন্যা, অনির্বাণ দাশ, শ্রীজিতা পাল ও ইরাবতী দাশ। মানববন্ধন শেষে শিক্ষক শারদ প্রত্যুষ বল শান্তির পক্ষে শপথবাক্য পাঠ করান শিশুদের।
তিনদিন ব্যাপী এই বৈশাখী মেলায় মুক্ত মঞ্চে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। মঙ্গলবার মেলার শেষ দিনে গান, নাচ ও আবৃত্তির মাধ্যমে বরণ করা হবে বাংলা নববর্ষ।



