মে দিবস
লাল পতাকার মিছিলে সয়লাব বন্দরনগরী

ছবি: আগামীর সময়
হাতে হাতে লাল পতাকা। দুনিয়ার মজদুর, এক হও স্লোগানে মুখর রাজপথ। গণসঙ্গীতে শোষণ, বৈষম্য, বঞ্চনার বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান। প্রতিবছরের মতো এবারও মিছিল, শোভাযাত্রা, সভা-সমাবেশে সয়লাব বন্দরনগরী। মহান মে দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল থেকে লাল পতাকার শহরে পরিণত হয় চট্টগ্রাম।
জোরালো কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দৃপ্ত শপথ। ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটি সকালে নগরীর চেরাগি পাহাড় মোড়ে মে দিবসের সমাবেশের আয়োজন করে। উদীচীর শিল্পীদের গণসঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা টিইউসির সভাপতি তপন দত্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, কেন্দ্রীয় নেতা ফজলুল কবির মিন্টু, চা শ্রমিক ইউনিয়নের প্রদীপ দাশ ও হাসপাতাল-ক্লিনিক কর্মচারী ইউনিয়নের আব্দুর রহিম।
সমাবেশের পর লাল পতাকার মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা নতুন রেলস্টেশন পর্যন্ত যান। শ্রমিকদের অধিকারবঞ্চিত রেখে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রবীণ শ্রমিক নেতা তপন দত্ত। সমাবেশে তিনি বলেছেন, ‘ইন্টেরিম সরকার একটি শ্রম সংস্কার কমিশন করেছিল। আমি নিজেও সেই কমিশনের সদস্য ছিলাম। শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, উৎপাদনের মুনাফায় শ্রমিকদের অংশীদারিত্বসহ আরও বিভিন্ন সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু ইন্টেরিম সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমরা বর্তমান সরকারের কাছে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।’
টিইউসি’র আরেক জেলা কমিটির উদ্যোগে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন চত্বরেও সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলার সভাপতি মছিউদ্দৌলা। আইন বিষয়ক সম্পাদক নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এতে টিইউসি নেতা আবু তাহের, জহির উদ্দিন মাহমুদ, আব্দুর রহিম, মোছলেহ উদ্দিন, রমেন চাকমা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশের পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলমের নেতৃত্বে লাল পতাকা মিছিল বের হয়। এতে নাভানা ব্যাটারিজ শ্রমিক ইউনিয়ন, টোটাল গ্যাস সিবিএ, বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী, বেকারি শ্রমিক ইউনিয়নসহ আরও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছিল। এজন্য সকাল থেকে নগরীতে গণপরিবহন ছিল না। সিএনজি অটোরিকশার চলাচলও ছিল সীমিত। তবে রিকশা চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। ফেডারেশনের উদ্যোগে পরিবহন শ্রমিকরা নগরীর সিআরবিতে সমাবেশ করে।
এতে প্রবীণ শ্রমিক নেতা মৃণাল চৌধুরী, মোহাম্মদ মুছা, অলি আহমদ ও রবিউল মওলা বক্তব্য রাখেন। জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে মে দিবসের আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
শ্রমিকদের রক্তে ফ্যাসিবাদের পতন ত্বরান্বিত হয়েছে মন্তব্য করে সমাবেশে মুহাম্মদ শাহজাহান বললেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা উৎখাতে তারাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর মন্তব্য, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশকে বহু বছর পিছিয়ে দিয়েছে। সরকারি কলকারখানা বন্ধ করে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে বেকার করেছে। বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত না হওয়ার দায় শেখ হাসিনার। নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে হলে শ্রমিকদের অধিকার দিতে হবে।’
সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এস এম লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে নগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী, বিএনপির কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এএম নাজিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার এবং শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস কে খোদা তোতন এতে বক্তব্য রাখেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিকদল বিকেলে নগরীর নাসিমন ভবন চত্বরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মে দিবসের সমাবেশের আয়োজন করেছে।
এতে প্রধান অতিথি থাকবেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এদিকে মে দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও নগরীতে গান, নাচ, আবৃত্তি, নাটকসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। উদীচী, বোধন আবৃত্তি পরিষদ, ফেইম, ওডিসি, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন ও চট্টগ্রাম ফিল্ম ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে আজ বিকেলে নগরীর চেরাগি চত্বরে অনুষ্ঠান হবে। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন শুক্রবার সকালে নগরীর চেরাগি চত্বরে মে দিবস উপলক্ষে সাংবাদিক সমাবেশ করেছে।



