চোরাইপণ্য জব্দে ‘ঘুষ চাওয়ার অডিও’ ফাঁস, এসআই প্রত্যাহার

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাইপণ্য জব্দের ঘটনায় পুলিশের এসআইয়ের বিরুদ্ধে উঠেছে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ। এসংক্রান্ত দুটি অডিও রেকর্ড ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। এরপর প্রত্যাহার করা হয়েছে কলমাকান্দা থানার এসআই মো. আবু হানিফকে। তদন্তে নেমেছে কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে এসব নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। একটি পিকআপ থেকে জব্দ করা হয় ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী। আটক করা হয় পিকআপচালক মো. নাছিম (২৩) ও তার সহকারী মনির হোসেনকে (২১)।
গতকাল বুধবার রাত ১০টার পর দুটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। দাবি করা হয়, অডিওর কথোপকথন এসআই আবু হানিফ ও চোরাচালানের ‘মূল হোতা’ জসিম উদ্দিনের মধ্যে।
৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের প্রথম অডিওতে জসিমকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।’ জবাবে অন্যজন (যাকে এসআই আবু হানিফ বলে দাবি করা হচ্ছে) বলেছেন, ‘না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন।’ উত্তরে জসিম বলেছেন, ‘এক লাখ টাকা দিব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা এই ব্যবসা করছেন, এটা নিয়ে দারোগার সঙ্গে কথা বলেন।’
দ্বিতীয় অডিওটি ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের। এতে এসআই দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি। আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।’ জবাবে জসিম বললেন, ‘আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে দুই লাখ টাকা দিচ্ছি। আমাকে একটু সময় দেন।’
এ পর্যায়ে ‘এসআই’-এর জবাব, ‘দেইখেন, হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না।’
অডিও ফাঁসের পর এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই হানিফের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মেলেনি সাড়া।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন বললেন, ‘চোরাইপণ্যের কারবারি জসিম মিয়াকে আসামি করে মামলাও হয়েছে। তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই’- দাবি তার।
অডিও রেকর্ডের সত্যতা যাচাইয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করেছে পুলিশ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এসআই আবু হানিফের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে বিভাগীয় ব্যবস্থা- জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার।
এর মধ্যে বদলি করা হয়েছে ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে।



