স্ত্রীর মামলায় কারাগারে স্বামী

সংগৃহীত ছবি
যৌতুক দাবি, নির্যাতন ও তালাকের হুমকির অভিযোগে করা মামলায় ব্যাংক কর্মকর্তা জাকির আহমেদের (৩৮) জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার সকালে শুনানি শেষে এ আদেশ দেন অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহসিনা ইসলাম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সোহেল তালুকদার।
আদালত সূত্র জানায়, যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায় গত ৪ মার্চ জাকির আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন তার স্ত্রী মাহবুবা নাসরিন মুন্নী (৩৫)। তিনি নেত্রকোনা সদর উপজেলার কুরপাড় এলাকার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৩ জুলাই ইসলামি শরিয়ত ও রেজিস্ট্রি কাবিন অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল ও আসবাবপত্রসহ দেওয়া হয় বিভিন্ন উপঢৌকন। বিয়ের পর থেকেই ঢাকায় ফ্ল্যাট কেনার কথা বলে স্ত্রীর বাবার কাছে ৩০ লাখ টাকা দাবি করতে থাকেন জাকির। টাকা না পেয়ে তিনি স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে রেখে যান জাকির। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ নেননি। তাদের সাত বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান আছে। সে বিরল চোখের রোগে আক্রান্ত।
স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। গত বছর ৫ ডিসেম্বর নেত্রকোনা শহরের কুরপাড় এলাকায় বাদীর বাবার বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকেও জাকির আবার ৩০ লাখ টাকা দাবি করেন। এতে অপারগতা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে সংসার না করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং যৌতুক না পেলে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করার হুমকি দেন বলে অভিযোগে তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে জাকির আহমেদ দাবি করেন, তিনি কোনো যৌতুক দাবি করেননি এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
নেত্রকোনা সোনালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক নূরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, কোনো কর্মকর্তা ফৌজদারি মামলায় কারাগারে গেলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি চাকরিতে যোগ দিতে পারেন না।



