মুক্তির পর জেলেরা
চোখ বেঁধে ট্রলারে তুলে নেওয়া হয় গভীর বনের আস্তানায়

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
গহিন সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে ১৩ দিন জিম্মি থাকার পর মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে এসেছেন বাগেরহাটের শরণখোলার ছয় জেলে। শনিবার (২ মে) সকালে ফিরে এসে তারা জানিয়েছেন, বন্দিদশার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় ভরা।
জেলেদের ভাষ্য, অপহরণের পর চোখ বেঁধে তাদের ট্রলারে তুলে গভীর বনের ভেতরে একটি অস্থায়ী আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চোখ খুলে দেওয়া হলেও শুরু হয় ভয়াবহ এক জীবন। কখনো দিনে দুই বেলা, কখনো এক বেলা খাবার দেওয়া হতো। ক্ষুধা পেলেও কিছু বলার সুযোগ ছিল না।
তাদের একজন উল্লেখ করেন, রাত নামলেই ভয় আরও বাড়ত। আলাদা আলাদা জায়গায় পা বেঁধে রাখা হতো। সামান্য নড়াচড়া বা জোরে কাশি দিলেও গালাগাল করত দস্যুরা। তখন নীরবে কান্না করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকত না।
অপহরণের তিন থেকে চার দিনের মাথায় দস্যুরা তাদের দিয়ে পরিবারের সদস্য ও মহাজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে। ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে টাকা জোগাড়ের অনুরোধ করতে বাধ্য করা হতো। দেরি হলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হতো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলেদের মহাজন জানান, প্রথমে প্রত্যেকের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয় জানানো হলেও দস্যুরা তা মানতে চায়নি। বরং জেলেদের হত্যা করে লাশ পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। পরে দীর্ঘ দরকষাকষির পর জনপ্রতি ২০ হাজার টাকায় রাজি হয় তারা।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার দস্যুদের দেওয়া বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার সকালে অন্য একটি নৌকায় করে জেলেদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
১৩ দিনের বন্দিদশা শেষে মুক্তি পেলেও সেই স্মৃতি এখনো তাড়া করে বেড়াচ্ছে তাদের। মাঝেমধ্যে সেই অভিজ্ঞতা মনে পড়লে আঁতকে উঠছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও মহাজন দাবি করেন, সুন্দরবনে দস্যুদের দৌরাত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় জেলেদের জীবিকা এখনো ঝুঁকির মুখে। অনেকেই বনে যেতে ভয় পাচ্ছেন। নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে না পারলে হাজার হাজার জেলে আর্থিক সংকটে পড়বেন। তারা দ্রুত কার্যকর দস্যুদমন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।





