ময়মনসিংহ
বাকা খাল পুনর্খনন শুরু, ফিরবে পানিপ্রবাহ

ময়মনসিংহের ভালুকায় দীর্ঘদিন দখল ও ভরাটে অস্তিত্ব হারানো বাকা খাল পুনর্খননের কাজ শুরু হয়েছে। রবিবার দুপুরে স্থানীয় সাংসদ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
এর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের উদ্যোগে টানা সাত দিন সরেজমিনে খালটির সীমানা চিহ্নিত করা হয়। সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম এ কাজ সম্পন্ন করেন।
উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কুচখালী থেকে শান্তির বাজার পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। গড়ে প্রস্থ ৯৫ ফুট এবং গভীরতা ৩০ ফুট হলেও দখল ও পলি জমার কারণে অনেক জায়গায় গভীরতা কমে গেছে। বিশেষ করে শোয়াইল এলাকায় খালের গভীরতা ৩ থেকে ৫ ফুটে নেমে এসেছে।
বাকা খাল সংস্কারে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অর্ধেক শ্রমিকদের মজুরিতে এবং বাকিটা খনন যন্ত্র ও বৃক্ষরোপণে ব্যয় হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি এবং পরে আরও ছয়টি মিলিয়ে আটটি ভেকু দিয়ে খননকাজ পরিচালিত হবে
জানা গেছে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের সুবিধার জন্য খালটি খনন করা হয়। এক সময় এই খালে নৌকা চলাচল করত এবং স্থানীয়রা গোসল ও গৃহস্থালির কাজে পানি ব্যবহার করতেন। তবে বছরের পর বছর দখল ও ভরাটে খালটি নাব্য হারিয়ে সংকুচিত হয়ে পড়ে। দুই পাড়ের জমির মালিকদের দখলে পড়ে অনেক অংশ প্রায় নালায় পরিণত হয়। ফলে সরকারি নথিতে নাম থাকলেও বাস্তবে খালটির অস্তিত্ব প্রায় বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক রমজান আলী মণ্ডল উল্লেখ করেন, খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় মেদুয়ারী ইউনিয়নের নিঝুরী, বান্দিয়া, শোয়াইল ও পানিভান্ডা গ্রামের অন্তত ১০ থেকে ১২টি বিলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এতে বোরো ধান রোপণে দেরি হয় এবং সামান্য বৃষ্টিতেই ফসল তলিয়ে যায়, ফলে কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়ে।
নিঝুরী গ্রামের কৃষক আব্দুল মতিন মৌলভী জানান, জলাবদ্ধতার কারণে তার ৭ থেকে ৮ একর জমির সবটিতে আবাদ করা সম্ভব হয় না। তার ভাষ্য, খালটি সংস্কার হলে মেদুয়ারী ও মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের মানুষ উপকৃত হবেন।
উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা ও খাল খনন কর্মসূচির সদস্য সচিব মুহিদুল আলম জানান, বাকা খাল সংস্কারে ১ কোটি ৫০ লাখ ৯০ হাজার ৬৬৪ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর অর্ধেক শ্রমিকদের মজুরিতে এবং বাকিটা খননযন্ত্র ও বৃক্ষরোপণে ব্যয় হবে। প্রাথমিকভাবে দুটি এবং পরে আরও ছয়টি মিলিয়ে আটটি ভেকু দিয়ে খননকাজ পরিচালিত হবে।
সরকারের খাল খনন কর্মসূচির আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে খালটিতে আবারও পানিপ্রবাহ ফিরবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।



