রক্তাক্ত বাহাউদ্দিনের আর্তনাদ
‘মামলা করলে তো ভিটেয় থাকতে দেবে না’

ফাইল ছবি
একটি ভিজিটিং কার্ড, সেটিই ছিল নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি। কিন্তু সেই কাগজের আশ্বাস এখন রক্তমাখা স্মৃতি। সাতক্ষীরা সদরের আগরদাড়ি কারিগরপাড়ার বাহাউদ্দিন (৫৫) আজ হাসপাতালের বিছানায়, একটি চোখের দৃষ্টি হারিয়ে, বাঁচার লড়াইয়ে।
ঘটনার শুরু গত বছরের ৫ আগস্ট। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সেই উত্তাল রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় লুট হয়ে যায় বাহাউদ্দিনের মুদি দোকান ও বসতভিটা। প্রাণভয়ে পরিবার নিয়ে শহরে আশ্রয় নেন। মাসের পর মাস উদ্বাস্তু জীবনের পর নির্বাচনের পরে একটুখানি আশার আলো দেখেন বাহাউদ্দিন।
সাতক্ষীরা-২ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক তার স্ত্রীর হাতে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বলেছিলেন, বাড়ি ফিরে যান, সমস্যা হলে জানাবেন। সেই আশ্বাসেই গত শুক্রবার (২০মার্চ) পৈতৃক ভিটায় ফেরেন বাহাউদ্দিন।
গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের নামাজ পড়েন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। কিন্তু ঈদের আনন্দ টিকল না একদিনও। রাত ৮টার দিকে ২০/৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাহাউদ্দিন ও তার স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় চিকিৎসার জন্য।
আমি কোনো রাজনীতি করি না। জমিজমা নিয়ে গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল। তারা ঈদের দিন মব তৈরি করে ওরা আমাকে মেরে মৃত ভেবে ফেলে রেখে গেছে। আমার ডান চোখ দিয়ে এখন আর কিছুই দেখতে পাই না। সারা শরীর ভাঙা-চোরা— হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বলছিলেন বাহাউদ্দিন।
অভিমানের সুরে বাহাউদ্দিন বলছিলেন, সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে বিশ্বাসে। যে ভিজিটিং কার্ডে ভরসা করে তিনি ঘরে ফিরেছিলেন, বিপদের মুহূর্তে সেই নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও কোনো সাড়া পাননি।
বিচার চাইবেন কিনা— এমন প্রশ্নে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বাহাউদ্দিন জানালেন, মামলা? এমনিতেই তো বাড়িতে থাকতে পারছি না। মামলা করলে তো ওরা আমাকে ভিটে মাটিতেই থাকতে দেবে না। তবে বিষয়টি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে জানিয়েছি। দেখি তিনি এই ঘটনার কী ব্যবস্থা নেন।
ঘটনাটি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানালেন ওসি।

