নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস উদ্বোধন
‘ইউ আর দ্য ফিউচার’ শিশুদের বললেন প্রধানমন্ত্রী

প্রায় সাড়ে চার বছর আগের কথা। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী লন্ডনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসায় গেছেন। পরে একটি রেস্টুরেন্টে খেতে যান তারা। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।
অনেক বিষয় নিয়ে কথাবার্তার মাঝে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। কী করা যায়? একপর্যায়ে ঠিক করা হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করব বাংলাদেশে।
এভাবেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ শুরুর গল্প দিয়েই নিজের বক্তব্য শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার (২ মে) বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
অবশ্য শুরুতেই স্টেডিয়ামে উপস্থিত শিশু-কিশোর সবাইকে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
এক সময় আমাদের দেশ পরাধীন ছিল। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা এই দেশকে আবার স্বাধীন করেছে
মাঠে উপস্থিত শিশু-কিশোরদের উৎসাহিত করে প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘এটা হচ্ছে আজকে তোমাদের অনুষ্ঠান। আমি চাই- তোমরা যারা এখানে বসে আছো, সারা বাংলাদেশে আজকে যারা স্টেডিয়ামগুলোতে বসে আছো ছোট বন্ধুরা, ইনশাআল্লাহ তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে। প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের ‘অ্যাম্বাসেডর’ হবে।’
তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের হবে খেলোয়াড়, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও চিকিৎসক। তোমরাই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। দেশকে নেতৃত্ব দেবে
নিজের হাতে থাকা বক্তব্যের নোট দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, অনেক বক্তব্য হয়েছে, আর বক্তব্য নয়। বরং কথা বলি। আর এই কথা বলতে গিয়েই জানিয়ে দিলেন মোক্ষম কথাটি। উপস্থিত শিশু-কিশোরদের প্রত্যেককে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের একজন অ্যাম্বাসেডর হওয়ার স্বপ্ন দেখতে বললেন। প্রত্যেকের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী একটি শব্দই উচ্চারণ করলেন, ‘ইউ আর দ্য ফিউচার।’
শিশুদের প্রতি আশার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলছিলেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন আন্তর্জাতিক মানের হবে খেলোয়াড়, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও চিকিৎসক। তোমরাই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশকে তুলে ধরবে। দেশকে নেতৃত্ব দেবে।’ এজন্য নিজেদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী। নিজেকে তৈরির মাধ্যমেই লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব স্মরণ করিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। সরকার ও রাষ্ট্র সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান।
কিশোরদের সামনে দেশের ইতিহাস তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘এক সময় আমাদের দেশ পরাধীন ছিল। আমাদের পূর্ব-পুরুষরা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা এই দেশকে আবার স্বাধীন করেছে।’
আগামীর বাংলাদেশের সবকিছু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তোমরা কি পারবে এই দেশকে এগিয়ে নিতে। যারা পারবে তারা হাত দেখাও। তখন গ্যালারিভর্তি শিশু-কিশোররা হাত তুলে ‘হাঁ’ সূচক দিলেন সম্মতি। তাদের ধন্যবাদও দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, এই বাংলাদেশকে তোমাদের গড়ে তুলতে হবে’— যোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী। এরপরই সবাইকে পুনরায় শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্যের সমাপ্তি টানলেন প্রধানমন্ত্রী।
‘বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া খাত নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অদেখা প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে’— বলছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
মন্ত্রী জানালেন, এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিতে পারবে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট- এই ৮টি খেলাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতা। পুরো প্রতিযোগিতাকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬ এর লোগো ও ট্রফি উন্মোচন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন— প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য শাম্মি আখতারসহ সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।



