শরণখোলায় জমির বিরোধে বাড়ি ভাঙচুরে মামলা, গ্রেপ্তার ২

ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাটের শরণখোলায় জমির বিরোধে স্থানীয় একটি হিন্দু বাড়িতে হয়েছে হামলা ও ভাঙচুর। এ ঘটনায় হওয়া মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে ২৬ জনের নামসহ অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে শরণখোলা থানায় মামলা করেন রবীন ঢালী।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের নাইম ইসলাম। শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাছান চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন এসব তথ্য।
হামলার ঘটনাটি গতকাল সোমবার দুপুরের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাদী রবীনের বাড়ি ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে। তিন-চার বছর ধরে একই এলাকার সোবাহান হাওলাদারের সঙ্গে জমি নিয়ে তার বিরোধ। এ নিয়ে চলছে মামলাও।
বাদীর অভিযোগ, বিরোধের জেরে সোমবার সোবাহান, তার দুই ছেলে মিরাজ ও আব্দুল্লাহ এবং দুই ভাই সরোয়ার ও দেলোয়ার লোকজন নিয়ে তার বাড়িতে হামলা করেন। ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়, চালানো হয় লুটপাট। বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন বাড়ির নারী সদস্যরা।
আহতরা হলেন, রবীন ঢালীর স্ত্রী সীমা রানী (৩৫), মা দুলালী রানী (৭০), নানি বেলকা রানী (৯০), দুই খালা বিমলা রানী (৬০) ও লীলা রানী (৬৫)। তারা উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি।
রবীন বলেছেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। সোবাহান হাওলাদার বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে এনে আমার বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন। সন্ত্রাসীরা সব ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। দুটি ট্রাংকে থাকা স্বর্ণালংকার ও জমির দলিলপত্র লুট করেছে। বাড়ি এখন ধ্বংসস্তূপ।’
বিরোধের সূত্রপাত কীভাবে, জানালেন সেটিও। ‘আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতাম। এই অনুপস্থিতির সুযোগে আমার দলিল করা জমি থেকে ১৫ শতাংশ প্রভাবশালী সোহরাব হাওলাদার তার নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ হয়। সমাধান না হওয়ায় বাগেরহাট আদালতে বাটোয়ারা মামলাও করা হয়। মামলা চলমান, আর তারা আমার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে আমাদের উচ্ছেদ করতে চাচ্ছে।’
হামলার ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবারটি, জানালেন তাদের স্বজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্মল হালদার ও বিজন হালদার।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদলের বাড়ি ওই এলাকায়। ভাঙচুরের খবরে রবীনের বাড়িতে যান তিনি। ‘আমি গিয়ে তাদের (হামলাকারীদের) ঠেকানোর চেষ্টা করি... রবীনের প্রতিপক্ষ এবং বহিরাগত অনেকেই ছিল। তাদের বাধা দিয়েও ফেরানো যায়নি। এরা কোনো দলের লোক না, এরা সন্ত্রাসী।’
শরণখোলা থানার ওসি মো. শামিনুল হক বললেন, ‘পুলিশ পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা জব্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাছান চৌধুরী ভুক্তভোগী পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।



