মায়ের রক্তাক্ত মরদেহের পাশে সারা রাত পড়েছিল আহত শিশু

মায়ের রক্তাক্ত মরদেহের পাশে সারারাত পড়েছিলেন আহত শিশু, সন্দেহভাজন আটক
ভোলার সদর উপজেলায় ঘটেছে এক ওমানপ্রবাসীর স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা। এ সময় ওই প্রবাসীর আট বছর বয়সী ছেলেকেও কুপিয়ে জখম করে ফেলে যায় মৃত ভেবে। ভয়ে দিশেহারা শিশুটি মায়ের নিথর দেহের পাশে রক্তাক্ত শরীরে বিভীষিকাময় রাত করেছে অতিবাহিত।
গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে বাথরুমের ভেন্টিলেটর দিয়ে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা-ছেলেকে জখম করে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে। একপর্যায়ে নাসিমার মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় মায়ের পাশে থাকা ৮ বছর বয়সী শিশুসন্তানও হামলার শিকার হয়ে আহত হয় গুরুতর।
পরিবার ও পুলিশ জানায়, নিহত নাসিমা বেগম (৩৫) দুবাই প্রবাসী আল-আমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী। শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ সরদার বাড়ির দক্ষিণ পাশে বসবাস করতেন নাসিমা বেগম। শুক্রবার রাতে খাবার শেষে ছেলে আবিরকে নিয়ে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে। আহত শিশু আবির বর্তমানে একই হাসপাতালে রয়েছে চিকিৎসাধীন।
আহত শিশু আবির জানান, রাতের আঁধারে স্থানীয় জামাল মেম্বারের ছেলে জিহাদ ঘরে প্রবেশ করে তার মাকে হত্যা করে কুপিয়ে এবং তাকেও করে আঘাত। পরে সে মৃতের ভান করলে হামলাকারী ত্যাগ করে ঘটনাস্থল। শনিবার সকালে ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং শিশুটিকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে ।
ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম বলেছেন, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আহত শিশুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জামাল মেম্বারের ছেলে মো. জিহাদকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে তদন্ত।



