চরফ্যাশনে টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় ডুবছে শত কৃষকের স্বপ্ন

ছবি: আগামীর সময়
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও পানিনিষ্কাশনের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধ হয়ে অনাবাদি পড়ে আছে প্রায় ১০০ একর জমি। এতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক ও জমির মালিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানিনিষ্কাশনে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় বছরের পর বছর একই রকম রয়ে গেছে পরিস্থিতি।
সরেজমিনে হাজি রোড এলাকায় দেখা যায়, ভোলা-চরফ্যাশন-দক্ষিণ আইচা আঞ্চলিক মহাসড়ক-সংলগ্ন খাল দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচলের জন্য নির্মিত সেতুর মুখ ভরাট করে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গড়ে তুলেছেন বসতবাড়ি। এতে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে বিল ও কৃষিজমিতে পানি জমে থাকে।
স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। গত ২৮ এপ্রিল থেকে টানা ছয় দিনের বৃষ্টিতে খাল-বিল উপচে পড়ে জমিতে। জোয়ার-ভাটার সময় অতিরিক্ত পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফলে বছরের পর বছর জমিতে চাষ বন্ধ রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ইরি, আমন ও বোরো ধানের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, সেতুর পাশের জমিতে বাঁধ দিয়ে কিছু ব্যক্তি মাছের ঘের তৈরি করায় পানিনিষ্কাশন আরও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে নিয়মিত ফসল ফলাতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়ছেন জমির মালিক ও বর্গাচাষিরা।
টানা বৃষ্টিতে শুধু কৃষিজমিই নয়, অন্তত ৮-১০টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ভুক্তভোগী শামসুদ্দিন আহমেদ বেপারি, ছিদ্দিক মাঝি, আজিজ ও গনি সরদার উল্লেখ করেছেন, তাদের জমি সারা বছরই পানিতে ডুবে থাকে, ফলে কোনো ফসল ফলানো সম্ভব হয় না।
কৃষক নেছার উদ্দিন নয়ন মিয়া জানিয়েছেন, জমিকে আমন চাষের উপযোগী করতে পানিনিষ্কাশনের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হলেও নেওয়া হয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা। দ্রুত সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, পানিনিষ্কাশনের বিষয়টি প্রশাসনের আওতাধীন। তবে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, খাল-বিল দখল ও সেতুর গোড়ায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।



