তলিয়ে যাওয়া জমিতে ভাসছিল কৃষকের দেহ

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের কায়স্থগ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ। এলাকার কাটমা হাওরে ১২ বিঘা জমিতে করেছিলেন বোরোর আবাদ। টানা এক সপ্তাহের বৃষ্টিতে তলিয়েছে সব। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। দুইদিন ধরে ছিলেন নিখোঁজ- জানায় পরিবার।
আজ দুপুরে তলিয়ে যাওয়া সেই জমির পাশে ভেসে উঠেছে রউফের মরদেহ। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, কিছু ধান উদ্ধারের চেষ্টায় নেমে ডুবে যান তিনি।
মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন গোপলারবাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কাজল চন্দ্র দেব। কথা বলেছেন মৃত কৃষকের পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে।
তাদের বরাতে এসআই জানিয়েছেন, রউফের তিন সন্তানের মধ্যে দুই ছেলে থাকেন বিদেশে। একমাত্র মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। কাটমা হাওরের ওই ১২ বিঘা জমিতে চাষাবাদ করে সংসার চলত তার। এবার সব তলিয়ে যাওয়ায় হতাশা ও শঙ্কা পেয়ে বসে তাকে। মঙ্গলবার বের হন জমি দেখতে। এর পর থেকে ছিলেন নিখোঁজ। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় লোকজন ওই জমির পাশে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন না থাকায় পুলিশের ধারণা, জমির পানিতে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে তার।
গজনাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য অয়তুন মিয়ারও এই ধারণা। তিনি জানালেন, জমি তলিয়ে যাওয়ায় রউফের দুবাইপ্রবাসী দুই ছেলে ফোন করে দুশ্চিন্তা না করতে বলেছিলেন। পাঠিয়েছিলেন কিছু টাকাও।
‘তিনি (রউফ) কাস্তে হাতে জমিতে গিয়েছিলেন, যদি কিছু ধান উদ্ধার করা যায়। আগেও তার শারীরিক অসুস্থতা ছিল। সে সময় হয়তো হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে তলিয়ে যান। নিখোঁজের পরদিন গ্রামবাসী দল বেঁধে হাওরের পানিতে তাকে খুঁজতেও নামে। আজ তার মরদেহ ভেসে ওঠে। রউফের পরিবার এখন দিশেহারা।’
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত হচ্ছে- জানিয়েছেন নবীগঞ্জ থানার ওসি মোনায়েম মিয়া।



