আগামীর সময়

ডিসির সিলযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত

ডিসির সিলযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত

ছবিঃ আগামীর সময়

মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সিলযুক্ত ‘ফুয়েল কার্ড’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই জনমতের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রিপন বিশ্বাস জানান, জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ায় ফুয়েল কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম বলেন, জারি করা পাঁচটি নির্দেশনার মধ্যে তৃতীয় নির্দেশনাটি স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নির্দেশনা আংশিক সংশোধন করা হয়েছে, তবে বাকি নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে।

এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসন মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের সিল ও স্বাক্ষরযুক্ত ফুয়েল কার্ড ছাড়া কোনো মোটরসাইকেলে তেল সরবরাহ করা যাবে না। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তেল নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে কোনো ফিলিং স্টেশন বা ডিলার পয়েন্টে তেল বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, তেল নেওয়ার সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ট্যাক্স টোকেন সঙ্গে রাখতে হবে এবং হেলমেট পরিধান বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্লাস্টিক বোতল বা ড্রামে জ্বালানি বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয় ও অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন ছাড়া খোলা বাজারে তেল ক্রয়-বিক্রয় বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়।

তবে নির্দেশনা জারির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরে ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। সাতক্ষীরা শহরের নিউ মার্কেট সড়কের এবি খান ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে শত শত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এতে সড়কের দুই পাশ ও মাঝখানে যানজট সৃষ্টি হয়ে পুরো এলাকায় যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে দেখা যায়।

এদিকে ফুয়েল কার্ড বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই এটিকে অযৌক্তিক ও ভোগান্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

এসব প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই শেষ পর্যন্ত ফুয়েল কার্ড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছে জেলা প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

    শেয়ার করুন: