লক্ষ্মীপুরের পলিটেকনিক একাডেমি
প্রধান শিক্ষক খেলেন টাকা, অনিশ্চয়তায় ৯ এসএসসি পরীক্ষার্থী

ছবি: আগামীর সময়
ফরম পূরণ না হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ৯ এসএসসি পরীক্ষার্থী। আজ মঙ্গলবার এই পাবলিক পরীক্ষা শুরু হলেও মেলেনি প্রবেশপত্র। অথচ সব ফি পরিশোধ করেছে তারা। জমা দিয়েছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও। তাদের টাকা বোর্ডে জমা না দিয়ে সদর উপজেলার কামানখোলা অলি উল্ল্যা মুসলিম পলিটেকনিক একাডেমির প্রধান শিক্ষক হজম করেছেন বলে অভিযোগ ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের।
সিরাজুল ইসলাম নামে এক অভিভাবকের বর্ণনা, গত ১৬ এপ্রিল বিতরণ করা হয় পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র। তখন এই ৯ জনের প্রবেশপত্র আসেনি জানান প্রধান শিক্ষক। কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘হয়তো অনুমোদন দেয়নি বোর্ড।’ তার কথার সূত্র ধরে বোর্ডে গিয়ে জানা যায়, পূরণই হয়নি তাদের ফরম। অথচ শুধু এক বিষয়ের ফরম পূরণের জন্য সবার কাছে বোর্ড ফি ১ হাজার ১০০ ও যাতায়াত খরচ ৪০০ টাকা করে নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। তাৎক্ষণিক বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় তারা।
‘গত বছর পরীক্ষা দিয়ে ভালো করেছি সব বিষয়ে। শুধু গণিতে পেয়েছি কম নম্বর। এবার সেই বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি এবং ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলাম পরীক্ষার। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের কারণে অনিশ্চিত আমাদের শিক্ষাজীবন’— আক্ষেপের সুরে জানাল জাহেদুল ইসলাম শিহাব নামে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ছৈয়দ আহমেদ ভূঁইয়ার বক্তব্য, ফরম পূরণ করতে পারিনি এই ৯ শিক্ষার্থীর। বিষয়টি জানানোও হয়নি তাদের। আগামী বছর পরীক্ষার ব্যবস্থা করব এই ভুক্তভোগীদের।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আনোয়ার হোসাইন পাটোয়ারী জানালেন, বিষয়টি জানার পরে তারা সদরের ইউএনওকে শিক্ষা বোর্ডে কথা বলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিয়েছেন চিঠি।
‘শিক্ষা বোর্ডে কথা বলেছি। আগামীকাল (বুধবার) প্রধান শিক্ষককে পাঠাব বোর্ডে। আশা করি, পরীক্ষায় বসতে পারবে এই ৯ শিক্ষার্থী। নেওয়া হচ্ছে সেই ব্যবস্থা’— আশ্বস্ত করলেন সদরের ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা।
অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।



