প্রতিমন্ত্রী
উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার

ছবি: আগামীর সময়
উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, উপকূলের পানির সংকট একটি মৌলিক সমস্যা এবং এটি দ্রুত সমাধানে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।
শনিবার মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বললেন তিনি। মোংলা উপজেলা প্রশাসন, ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্স যৌথভাবে আয়োজন করে এ সংলাপের।
প্রতিমন্ত্রী মত দেন, মোংলা, রামপাল, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, দাকোপ ও বটিয়াঘাটাসহ উপকূলের প্রতিটি এলাকায় সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, এটি শুধু উন্নয়ন নয়, মানুষের বেঁচে থাকার প্রশ্ন। তাই প্রয়োজন টেকসই সমাধান।
তিনি আরও বলেছেন, প্রাকৃতিক উপায়ে পানির সংকট কমাতে নেওয়া হয়েছে সরকারি পুকুর সংস্কার ও পানি সংরক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ গুরুত্ব। বর্ষাকালে ট্যাংকি ও পুকুরে পানি সংরক্ষণ করে চাহিদা পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংলাপে উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, উপকূলের প্রায় ৭৩ শতাংশ মানুষ এখনও বাইরে রয়েছে নিরাপদ পানির। প্রায় ৩ কোটি মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং দেড় কোটি মানুষ পান করতে বাধ্য হচ্ছে লবণাক্ত পানি। মোংলায় প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষের নিরাপদ পানি সংগ্রহের নেই স্থায়ী ব্যবস্থা।
এসময় বক্তারা সুপারিশ করেন, বাংলাদেশ পানি আইনের ধারা ১৭ অনুযায়ী উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা, জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যয় করা এবং সরকারি পুকুরগুলোকে সুপেয় পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি পুকুর খনন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে পাইপলাইনে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। স্বল্পমেয়াদে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পানির ট্যাংকি বিতরণের ওপরও করা হয় গুরুত্বারোপ।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাট জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেন এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের।
সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত মল্লিক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমীসহ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।



