ঝড়ে ক্ষতি, বৃষ্টিতে ‘স্বস্তি’

ছবি: আগামীর সময়
তপ্ত বৈশাখের ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ ছিল নওগাঁবাসী। রবিবার দুপুর থেকে প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে শীতল হয় চারপাশ। তবে ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কিছু বাড়িঘর ও ফসল। ডিজেল সংকটকালে বৃষ্টিকে অবশ্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা। বলেছেন, সেচের কাজ করে দিয়েছে বৃষ্টির পানি।
রবিবার দুপুর থেকে আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘ। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শুরু হয় প্রবল ঝড়, এরপর বৃষ্টি। বিকেলে সূর্য কিছুক্ষণ উঁকি দিলেও থেমে থেমে বইতে থাকে ঝড়ো হাওয়া। ভোররাতে ফের মেঘের গর্জন ও কালবৈশাখী।
আজ সোমবার দিনের আলো ফুটতেই স্পষ্ট হয় ক্ষয়ক্ষতি। রানীনগর ও আত্রাই উপজেলার রাতোয়াল, করজগ্রাম, মনিয়ারী ও আশপাশের গ্রামে বাতাস উড়ে গেছে অনেক বাড়িঘরের ছাউনি। একই অবস্থা পত্নীতলা, মহাদেবপুর ও নিয়ামতপুর উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি। এতে বসতঘরের পাশাপাশি ক্ষতি হয়েছে ফসলেরও।
রানীনগরের কালীগ্রামের হারুনুর রশিদের ধারণা, প্রচণ্ড ঝড়ে রানীনগর ও আত্রাইয়ের শতাধিক বাড়িঘর হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।
‘ঝড়ের কারণে বাড়িঘর উড়ে গেছে, ভুট্টাক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। পাকা ধান জমিতে পড়ে আছে। আমও ঝরে পড়েছে’— বলেছেন মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রামের মোয়াজ্জেম হোসেন।
‘ঝড়ে কিছু অসুবিধা হলেও বৃষ্টির পানি চাষিদের মাঝে আশীর্বাদ হয়ে এসেছে’— মনে করেন নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হোমায়রা মণ্ডল। ‘বৃষ্টির কারণে বোরো আবাদে উপকার হয়েছে। ধানের ফলন ভালো হবে। ফসলে সেচ দেওয়ার দুশ্চিন্তা থেকে চাষিরা মুক্ত হয়েছেন।’
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের তালিকা হচ্ছে— জানালেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা দেওয়া হবে’, আশ্বাস ডিসির।



