ছাত্রদলের সদস্য সচিবের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম রনিকে ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে জেলায়। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে।
রনি নলছিটি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আরিফুর রহমান খান ও সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দিপু চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেন। পরে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিলে তিনি শৃঙ্খলা মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তেঁতুলবাড়িয়া বাজারে ব্যবসায়ী জামাল হোসেন মল্লিকের কাছে চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে হত্যার হুমকি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলাও হয়, যেখানে রনি আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রানাপাশা ইউনিয়নে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু ফেলার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট একটি কমিটিতে তিনি উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে দলের ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে।
অন্যদিকে, দলীয় একটি অনুষ্ঠানে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে হট্টগোল ও অসদাচরণের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান জেলাপর্যায়ের নেতারা।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাইদুল ইসলাম রনি। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে অভিযোগ তোলা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজির মামলাটি তদন্ত শেষে খারিজ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যান্য অভিযোগকেও তিনি মিথ্যা উল্লেখ করেছেন।



