মধ্যনগরে পাউবোর বাঁধ ভেঙে ডুবছে হাওরের ফসল

ছবি: আগামীর সময়
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের বোয়ালা হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভেঙে পানি ঢোকার পর পাল্টে গেল জেলা পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদারের বক্তব্য। তিনি বলেছিলেন, 'এই হাওরের শতভাগ ধান কাটা হয়ে যাওয়ায় চেষ্টা করা হয়নি বাঁধের ভাঙন ঠেকানোর।'
এদিকে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার ভাষ্য, বাঁধ ভাঙায় হাওরে তলিয়েছে ২০ হেক্টর জমির ধান।
শনিবার সকালে বাঁধ ভেঙে ডুবেছে মধ্যনগরের বোয়ালা হাওরের ফসল। এতে হাওরে ডুবে যাওয়া ধান কাটবেন, না কী বাঁধ রক্ষা করবেন— এই সংকটে পড়েছেন কৃষকরা। দিশেহারা কৃষকদের অনেকেই আশা ছেড়ে করছেন কেবল হাহুঁতাশ।
এদিন ভোর থেকে বৃষ্টিপাতে সোমেশ্বরী নদীর পানি বেড়ে মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের কালভার্টের সামনে পাউবোর দেওয়া বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়ে পানি। সকালে যারা এই হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন তারা শুরু করেন কান্নাকাটি, জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আশপাশের কৃষক ও প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও ঠেকাতে পারেননি ভাঙনের তীব্রতা। বাঁধের এই ভাঙনের জন্য পাউবো ও তাদের নিয়োজিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসির) লোকজনকে দোষারোপ করেছেন কৃষকরা। পানির প্রবল বেগ দেখে আশা ছেড়ে দিয়েছেন শত শত কৃষক।
উপস্থিত কৃষকদের ভাষ্য, বাঁধের কাজে অবহেলা ছিল। কালভার্টের মুখের এই বাঁধে আড়-প্যালাসেটিং কিছুই দেওয়া ছিল না।
মধ্যনগর গ্রামের কৃষক মুরাদ মিয়া জানালেন, তার ১৭ কেয়ার জমি কাটার বাকি ছিল। শনিবার সকালে ধান কাটা শ্রমিক নিয়ে গিয়েছিলেন হাওরে। এ সময় বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ফসল।
এ বিষয়ে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা বলেন মধ্যনগর ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন। বোয়ালা হাওরে ৬০০ হেক্টরের মধ্যে ৪০০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। আগেই জলাবদ্ধতায় ছিল ১৮০ হেক্টর। বাঁধ ভাঙার কারণে তলিয়েছে ২০ হেক্টর জমির ধান।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছিলেন, শেষ হয়ে গেছে হাওরের ধান কাটা। এমন সময় ভাঙল বাঁধ। এজন্য চেষ্টা করা হয়নি ভাঙন ঠেকানোর। এর আগে শুক্রবার বাঁধ ভেঙে এই উপজেলার শালদিঘা হাওরে ঢুকছিল পানি। দিনভর চেষ্টার পর ভাঙনের অংশ দিয়ে পানি ঢোকা আটকানো সম্ভব হয়।




