রাণীশংকৈল
একাধিক দপ্তরে ‘ভারপ্রাপ্ত’, সেবায় ব্যাঘাত

ছবি: আগামীর সময়
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে। পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছে না সময়মতো।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য রয়েছে বর্তমানে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শূন্য। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম পালন করছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি ২০২৫ সালের ৩০ জুন তোবারক হোসেন অবসর গ্রহণের পর থেকে শূন্য। সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দীন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে আছেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পদটি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শূন্য। বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাণীশংকৈলে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ হলে তার কাজের চাপ কমবে।
মৎস্য কর্মকর্তার পদটি ২০২৪ সালের মে মাস থেকে শূন্য। সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল জলিল ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মন্তব্য করেন, মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ হলে পূরণ হবে পদটি।
পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদটি ২০২৪ সালের মার্চ থেকে শূন্য। সহকারী কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ মুক্তাদির হোসেন বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।
পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ পদোন্নতির কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বদলি হয়েছেন। বর্তমানে সহকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আছেন। তিনি জানান, আপাতত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে জেলা উপ-পরিচালক আব্দুল বাছেদ দাবি করেন, যিনি দায়িত্বে রয়েছেন তিনিই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকারকে গত ২০ এপ্রিল বদলি করা হয়। এরপর থেকে পদটি শূন্য।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার জানালেন, জেলার চারটি উপজেলায় রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। দ্রুতই এসব পদে পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগমের ভাষ্য, পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয় এবং সেবা দ্রুত দেওয়া সম্ভব। তিনি মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার শূন্য পদটি দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।



