টানা বৃষ্টিতে খলায় নষ্ট ধান, সরকারি স্থাপনায় শুকানোর নির্দেশ

ছবি: আগামীর সময়
চলমান অতিবৃষ্টি ও মেঘাচ্ছন্ন আকাশে ধান শুকাতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। জমিতে জলাবদ্ধতায় ধান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খলায় রাখা ধানও। এ অবস্থায় কৃষকদের সহায়তায় জেলার সব সরকারি স্থাপনা ধান শুকানোর কাজে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি ও সূর্যের আলো না থাকায় শুকানো যাচ্ছে না ধান। অনেকেই বাধ্য হয়ে স্তুপ করে রাখছেন ভেজা ধান। এতে ধানের মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান কৃষকদের বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তার নির্দেশনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং উপযুক্ত খোলা জায়গায় ধান শুকানোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলার ১২টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেছেন, অতিবৃষ্টিতে ধান শুকানোর স্থানগুলো কাদাময় হয়ে পড়ায় কাটা ধান সংরক্ষণ করতে পারছেন না কৃষকেরা। পর্যাপ্ত রোদ না থাকায় আরও জটিল হয়েছে পরিস্থিতি।
‘কৃষকদের সুবিধার্থে উপজেলায় সব সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।’-যোগ কনে তিনি।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ায় ধান খলায় স্তুপ করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে রাখা ঠিক নয়। বরং বাতাস চলাচল করে এমন উঁচু স্থানে বা ঘরের মেঝেতে ধান মেলে রাখা উচিত। প্রয়োজনে ফ্যান চালিয়ে শুকানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই ধান বস্তায় ভরে পানিতে ডুবিয়ে রাখা যাবে না। এতে অল্প সময়েই নষ্ট হয়ে যেতে পারে ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, যেসব ধান পেকে গেছে এবং এখনও পানিতে তলিয়ে যায়নি, সেগুলো দ্রুত কেটে ফেলতে হবে। ভালো আবহাওয়ার জন্য অপেক্ষা করলে ঝুঁকি বাড়বে ক্ষতির।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান জানিয়েছেন, কাটা ধান রক্ষায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে জেলার সব সরকারি স্থাপনা ব্যবহারের। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের।
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিটি গ্রামের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধান শুকাতে পারবেন কৃষকরা। এতে ধানে অঙ্কুরোদগম রোধ করা যাবে এবং পরে রোদ উঠলে সুযোগ মিলবে খলায় শুকানোর।



