মিনি সুন্দরবনের ছোঁয়া, সবুজ অরণ্য আর সাগরের মেলবন্ধন

ছবি: আগামীর সময়
ভোলার দক্ষিণ প্রান্তে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা কুকরি মুকরি দ্বীপ ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে ‘মিনি সুন্দরবন’ নামে। সবুজ ম্যানগ্রোভ বন, জীববৈচিত্র্য আর সমুদ্রঘেঁষা নিসর্গ একসঙ্গে মিলে এই দ্বীপকে করে তুলেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য।
প্রায় ৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত কুকরি মুকরি ও তারুয়া সমুদ্রসৈকতে দেখা মেলে লাল কাঁকড়া, কালো বালির বিস্তীর্ণ প্রান্তর আর ঘন সবুজ অরণ্যের। সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ম্যানগ্রোভ বন অনেকটাই মনে করিয়ে দেয় সুন্দরবনের প্রতিচ্ছবি। শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া থেকে আসা অতিথি পাখির কলতানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পাশাপাশি হরিণ, মহিষ, শিয়ালসহ নানা বন্যপ্রাণীর বিচরণ এই দ্বীপের পরিবেশকে করে তোলে আরও বৈচিত্র্যময়।
কুকরি মুকরির আরেক বড় আকর্ষণ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। ভোরের নরম আলো কিংবা বিকেলের লাল-কমলা আভায় সূর্যের ডুবে যাওয়া দুটি সময়ই ছড়িয়ে দেয় যেন আলাদা এক মুগ্ধতা। চারপাশের নিস্তব্ধ প্রকৃতি আর সমুদ্রের শব্দ মিলিয়ে এই দৃশ্য পর্যটকদের মনে এনে দেয় গভীর প্রশান্তি।
যাতায়াতের দিক থেকেও দ্বীপটি এখন তুলনামূলক সহজলভ্য। রাজধানী ঢাকা থেকে নৌপথে ভোলা পৌঁছে সড়ক ও নৌপথ মিলিয়ে দক্ষিণ আইচা হয়ে চরকচ্ছপিয়া লঞ্চঘাট থেকে কুকরি মুকরি বা ঢালচর তারুয়া সৈকতে যাওয়া যায়। স্থানীয়ভাবে সহজেই পাওয়া যায় স্পিডবোট, মোটরসাইকেল ও অটোবাইক, যা দ্বীপের ভেতরে আরও সহজ করে চলাচলকে।
থাকা ও খাওয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী আবাসন, ক্যাম্পিং সুবিধা এবং সাধারণ খাবারের হোটেল। প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে এসব ব্যবস্থা পর্যটকদের জন্য তৈরি করে আলাদা অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন এই দ্বীপকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার। তার মতে, যথাযথ উন্নয়ন হলে কুকরি মুকরি পরিণত হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্যে।
অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ আর বৈচিত্র্যময় জীববৈচিত্র্যের কারণে কুকরি মুকরি বর্তমান সময়ে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে ভ্রমণপিপাসুদের প্রিয় তালিকায়। প্রকৃতির কাছাকাছি কিছু সময় কাটাতে চাইলে এই দ্বীপ হতে পারে এক অনন্য পছন্দ।



