বন্ধুর জন্য কবর, শেষমেশ নিজেরই ঠিকানা

ছবি: আগামীর সময়
সকাল তখনো পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। কবরস্থানের মাটিতে দাঁড়িয়ে আবুল হাশেম খুঁড়ছিলেন প্রিয় বন্ধুর শেষ ঠিকানা। মনে হয়, তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল বহু বছরের স্মৃতি। একসঙ্গে কাটানো সময় আর মানুষের জন্য করা কাজগুলো। কিন্তু কে জানত সেই কবরই কিছুক্ষণের মধ্যে হয়ে উঠবে তার নিজের চিরনিদ্রার স্থান।
ঘটনাটি ঘটেছে আজ সোমবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে দক্ষিণ কেরোয়া ছৈয়াল বাড়ি জামে মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানে।
মৃতরা হলেন আবুল হাশেম (৯০) ও বাচ্চু পাটওয়ারী (৮৫)। তারা ছিলেন দীর্ঘদিনের দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবনে তারা ছিলেন অবিচ্ছেদ্য। একজন কাঠমিস্ত্রি, অন্যজন মসজিদের মুয়াজ্জিন। তবে পেশা নয়, মানুষের জন্য কাজ করাই ছিল তাদের পরিচয়। এলাকায় কেউ মারা গেলে বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়ে দিতেন তারা। এভাবে শতাধিক কবর খুঁড়েছেন এ দুই বন্ধু।
গতকাল রাতে একসঙ্গে চা পান ও আড্ডা দেন তারা। সোমবার ভোরে ফজরের নামাজও আদায় করেন। পরে সকালে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান বাচ্চু পাটওয়ারী। বন্ধুর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন আবুল হাশেম। শেষবারের মতো বন্ধুর পাশে থাকতে নিজেই কবর খুঁড়তে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কবর খোঁড়ার একপর্যায়ে হঠাৎ কবরের ভেতরই লুটিয়ে পড়েন আবুল হাশেম। দ্রুত তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান।
আবুল হাশেমের ছেলে জহির হোসেন বলেছেন, ‘মানুষ মারা গেলে সওয়াবের আশায় বাবা ও বাচ্চু চাচা বিনা পারিশ্রমিকে কবর খুঁড়তেন। আজ বন্ধুর কবর খুঁড়তে গিয়েই বাবা চলে গেলেন।’
‘আমরা একসঙ্গে কবর খুঁড়ছিলাম। হঠাৎ করেই হাশেম কাকা কবরের ভেতরে পড়ে যান। পরে তুলে দেখি, তিনি আর বেঁচে নেই’— বললেন বাচ্চু পাটওয়ারীর ভাতিজা নাজির আহমেদ হুমায়ুন পাটওয়ারী।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই বন্ধুর এই মৃত্যু যেন এক অদ্ভুত মিলন। জীবনে যেমন একসঙ্গে ছিলেন, মৃত্যুতেও তেমনি একসঙ্গে চলে গেলেন। পরে পরিবার ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে তাদের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন করা হয়।



