দেড় বছরে ৪০ দস্যু আটক, সুন্দরবনে নিরাপত্তা জোরদার

সংগৃহীত ছবি
সুন্দরবনের দস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড'সহ জোরদার করা হয়েছে বিশেষ অভিযান।
দস্যুতা সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কোস্ট গার্ড। এর অংশ হিসেবে 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামে পরিচালিত হচ্ছে দুটি বিশেষ অভিযান। তিনি জানান, রবিবার কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে নৌবাহিনী,পুলিশ ও র্যাবের সমন্বয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় চালানো হয় একটি যৌথ অভিযান।
পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠীর মাঝে দস্যুতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরদার করা হয়েছে সার্বক্ষণিক টহল। সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ নদী ও খালে নজরদারি বৃদ্ধির ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে দস্যুতা।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, গত দেড় বছরে করিম শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ, দুলাভাই ও আসাবুর বাহিনীসহ আটক করা হয়েছে বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৪০ জন সক্রিয় সদস্যকে। এ সময় ৪৩টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৯৬ রাউন্ড তাজা গুলি, ২৯৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি এবং ২টি হাতবোমাসহ উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র।
এছাড়া শনাক্ত করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে দস্যুদের কয়েকটি আস্তানা। অভিযান চলাকালে ৩৭ জন জেলে, ২ জন পর্যটক ও ১ জন রিসোর্ট মালিকসহ উদ্ধার করা হয়েছে মোট ৪০ জন জিম্মিকে। স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে তাদের।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে পুরোপুরি দস্যুমুক্ত করতে ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান।



