টানা বৃষ্টিতে শেরপুরে ফসলহানি, বিপাকে বোরো চাষিরা

ছবি: আগামীর সময়
শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ইরি-বোরো ধান তলিয়ে গেছে পানিতে। এতে শ্রমিক ও ডিজেল সংকটের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে আগাম রোপণ করা ধান কাটা শুরুর আগেই টানা বৃষ্টিতে হয়ে পড়ে প্লাবিত। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, অন্তত ১৬৫ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে পানিতে হয়েছে নিমজ্জিত। তবে কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
পানিতে তলিয়ে যাওয়া ধানে এখন গজাতে শুরু করেছে শিকড়। ফসল রক্ষায় কৃষকরা দ্রুত ধান কাটার চেষ্টা করলেও তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়েছে শ্রমিক সংকট। দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মজুরি দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না ধানকাটা শ্রমিক বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
নালিতাবাড়ীর কৃষক মফিজল মিয়া বলছিলেন, এক কড়া জমির ধান কাটতে খরচ হচ্ছে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত। মেশিনে কাটলেও টাকা লাগে ৬ থেকে ৭ হাজার, কিন্তু ডিজেল সংকটে পাওয়া যাচ্ছে না মেশিনও। এতে কৃষকদের খরচ বাড়লেও কমে যাচ্ছে আয়।
ঝিনাইগাতীর কৃষক শাহীন ভান্ডারী জানালেন, আগাম ধান লাগিয়েও এবার তারা পড়েছেন ক্ষতির মুখে। তার ভাষ্য, বৃষ্টি আর পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে ফসল, কিন্তু শ্রমিক না থাকায় সময়মতো কাটা যাচ্ছে না ধান।
ধান মাড়াই মেশিনের মালিক সফিক জানাচ্ছিলেন, তারা ঠিকভাবে মেশিন চালাতে পারছেন না ডিজেল সংকটের কারণে। যারফলে অনেক ক্ষেতেই পড়ে থাকছে কাটা ধান এবং শিকড় গজাচ্ছে ধানে।
জেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে শেরপুরে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে প্রায় ৯১ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে। এখনো পুরোপুরি কাটা শুরু হয়নি ধান, তবে খবর পাওয়া গেছে নিম্নাঞ্চলে কিছু ক্ষয়ক্ষতির।
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাকোয়াত হোসেন বললেন, পুরো জেলায় এখনো ধান কাটা শুরু হয়নি পুরোপুরিভাবে। শ্রমিক সংকটের বিষয়টি স্বাভাবিক নয়। ডিজেল সরবরাহের বিষয়টি আমাদের হাতে নেই, তবে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বলে জানান তিনি।



