যশোরবাসী পাচ্ছে ভোরে ঢাকার ট্রেন, সন্ধ্যায় ফিরতি সুবিধা

সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগ নিরসন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে শুরু হয়েছে ঢাকা-বেনাপোল-ঢাকা রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালুর জোর তৎপরতা। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই নতুন ট্রেন চলাচলের একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি ভোর ৫টায় বেনাপোল থেকে ছেড়ে সকাল ৬টায় যশোর পৌঁছাবে এবং পদ্মা সেতু হয়ে মাত্র ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে পৌঁছাবে ঢাকায়।
যশোর-৪ আসনের এমপি গোলাম রসূল সম্প্রতি জাতীয় সংসদে রেলমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বাঘারপাড়া উপজেলার ‘পদ্মবিলা’ স্টেশনে যাত্রাবিরতি এবং যশোর থেকে সকালে ঢাকা অভিমুখী নতুন ট্রেনের দাবি তোলেন। তিনি বলেছেন, ‘যশোর সদরে যে স্টেশনটি রয়েছে, সেখানেও ট্রেনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বর্তমানে বেনাপোল থেকে বিকেল ৪টায় মাত্র একটি ট্রেন ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।’
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ট্রেনটি ভোর ৫টায় বেনাপোল থেকে ছেড়ে সকাল ৬টায় যশোর পৌঁছাবে এবং পদ্মা সেতু হয়ে মাত্র ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। ফলে যশোরবাসী সকালে ঢাকায় গিয়ে কাজ সেরে একই দিনে ফিরতে পারবেন।
অন্যদিকে, যশোর-৩ আসনের এমপি ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত রেলমন্ত্রীকে দেওয়া এক আধা-সরকারি চিঠিতে ভোরবেলা বেনাপোল-যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন চালু এবং দাবি জানান যশোরে একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপনের।
রেলভবন সূত্রে জানা গেছে, ৮২৯/৮৩০/৮৩১/৮৩২ নম্বর ট্রেনটি নতুন কোচ দিয়ে পরিচালনার পরিকল্পনা হয়েছে। ট্রেনটি বেনাপোল থেকে ভোর ৫টায় যাত্রা শুরু করে যশোরে পৌঁছাবে ৫টা ৫০ মিনিটে এবং সেখান থেকে সকাল ৬টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে নড়াইল, লোহাগড়া, কাশিয়ানী ও ভাঙ্গা স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।
ফিরতি পথে ট্রেনটি ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টায় বেনাপোল পৌঁছাবে। এছাড়া ভারত থেকে নতুন কোচ পাওয়া সাপেক্ষে ঢাকা-মোংলা রুটে ১৩৭/১৩৮ নম্বর দুটি কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত পর্যায়ে।
সকালের ট্রেন চালুর সম্ভাবনার খবরে যশোরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী রিয়াজুল ইসলাম শাওন বলেছেন, ‘প্রতিদিন যশোর থেকে ঢাকায় প্রচুর যাত্রী যাতায়াত করেন। সকালে ট্রেন চালু হলে ব্যবসায়ীরা কাজ সেরে দিনেই ফিরতে পারবেন।’
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবল লোকোমাস্টার (এলএম), গার্ড ও টিটিই— নিশ্চিত করে দ্রুতই এই সেবা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ট্রেনের নাম ও সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও সঞ্চার করবে নতুন গতি।



