আগামীর সময়

জ্বালানি জঞ্জালে ‘আরেক হত্যাকাণ্ড’

জ্বালানি জঞ্জালে ‘আরেক হত্যাকাণ্ড’

সংগৃহীত ছবি

সরকারের তরফে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক দাবি করা হলেও তেল নিয়ে তেলসমাতি চলছেই। জ্বালানি জটিলতায় ঘটেছে প্রথম প্রাণ যাওয়ার ঘটনা। তেল না পেয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে ফিলিংস্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে খোদ চালকের বিরুদ্ধে। 

নড়াইল সদর উপজেলার এ ঘটনায় ফিলিংস্টেশনের আরেক কর্মচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের নড়াইল-যশোর সড়কের তুলারামপুর রেলব্রিজের কাছে।

নিহতের নাম নাহিদ সরদার (৩৫)। তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের মৃত আকরাম সরদারের ছেলে তিনি। নাহিদ উপজেলার মের্সাস তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার ছিলেন। আহত জিহাদুল মোল্যা একই এলাকার জহুরুল মোল্যার ছেলে।

ফিলিংস্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দিবাগত রাতে বিতণ্ডার পরও ওই ট্রাকচালক পাম্পের সামনেই অবস্থান নেন। রাত ২টা ১০ মিনিটে স্টেশনের কাজ সেরে বাড়ির উদ্দেশে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন নাহিদ। সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী জিহাদ। এরপর ট্রাক নিয়ে তাদের পিছু নেয় চালক সুজাত।

পুলিশ জানায়, পরে ওই ট্রাকচাপায় নাহিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত জিহাদুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জেলা হাসাপাতালে নিলে সেখান থেকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে। আর ম্যানেজার নাহিদের মরদেহ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফিলিংস্টেশনের কর্মচারীরা জানান, শনিবার রাতে ট্রাকচালক সুজাত তেল নিতে ফিলিং স্টেশনে আসেন। তেল নিয়ে ম্যানেজার নাহিদের সঙ্গে ট্রাকচালকের কথা কাটাকাটি হয়। ক্ষুব্ধ ট্রাকচালক প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেন ম্যানেজারকে ।

বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন তুলারামপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সেকেন্দার আলী।

চলতি বছরের ৮ মার্চ ঝিনাইদহ-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের সেন্ট্রাল বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য তেল কিনতে গিয়ে মারধরে এক ছাত্রনেতার মৃত্যু হয়েছে। নিহত নীরব পাম্পে গিয়ে যে পরিমাণ তেল চান পাম্প কর্মচারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পাম্পের কয়েকজন কর্মচারী তাকে মারধর করে। পরে গুরুতর অবস্থায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর নীরবকে মৃত ঘোষণা করে।

এর আগে ১৬ জানুয়ারি রাজবাড়ীতে তেলের টাকা পরিশোধ না করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে গেলে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল হাশেম সুজনের গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা যান করিম ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন সাহা (২৮)।



    শেয়ার করুন: