নাগরদোলায় ঝুলে থাকা জীবন

রুবেল। সম্প্রতি ফেনী পি টি আই মাঠে মিনি নাগরদোলা রাইডের সামনে তোলা।
ওর নাম রুবেল। বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার টুমচরে। বাবা রফিকুল ইসলাম দিনমজুর। মা-বাবা ও তিন ভাইবোনকে নিয়ে তাদের সংসার। সেখানে অভাব নিত্যসঙ্গী। পড়ালেখা করার অনেক ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু অনটনের সংসারে সেই সুযোগ হয়নি।
ওদের এক আত্মীয়ের নাম আব্দুল করিম। তিনি বিভিন্ন জেলা শহরে ঘুরে যেসব মেলা আয়োজিত হয়, সেখানে ছোট ছোট রাইড বসিয়ে উপার্জন করেন। এসব রাইডের বেশির ভাগই হস্তচালিত। যেমন নাগরদোলা, ঝুলন্ত নৌকা ও মেরি গো রাউন্ড।
একদিন বাবা তাকে ওই আত্মীয়ের সঙ্গে রাইডে কাজ করতে পাঠিয়ে দেন। কয়েকজন মিলে তারা বিভিন্ন রাইডে কাজ করে। কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ। নাগরদোলার যে অংশে শিশুরা বসে, সেই অংশটি ঝুলে ঘুরিয়ে দিতে হয়। বারবার উঁচুতে লাফিয়ে উঠে আবার নিচে টেনে নামাতে হয়। এরপর ঘুরতে থাকে নাগরদোলা।
সম্প্রতি ফেনী শহরের পি টি আই মাঠে ৭ দিনের বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নাগরদোলায় কাজ করছিল রুবেল।
তোমার ভয় লাগে না?
প্রথম প্রথম লাগত, এখন আর লাগে না।
সে জানায়, একেক সময় একেক জেলায় মেলা বসে। তাই তারাও বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ায়। তারা দৈনিক বেতনে কাজ করে। দিনে মজুরি ৪০০ টাকা। খাওয়া-থাকার ব্যবস্থা মালিকের।
রুবেল জানায়, সে নিজে কখনো এসব রাইডে চড়ার সুযোগ পায়নি। এ প্রতিবেদক তাকে দুটি রাইডের টিকিট কিনে দিলে তার আনন্দ আর ধরে না।
রুবেল আরও জানায়, এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সে আর করতে চায় না। সে পড়াশোনা করতে চায়। পাশাপাশি কোনো কারিগরি কাজ শেখারও ইচ্ছা আছে তার।



