নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় ভাগ্নেসহ রিমান্ডে দুই

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে আসামিদের গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। ছবি : আগামীর সময়
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। নওগাঁর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোনাবিল হক বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নিয়ামতপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই) চাঁদ আলী রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩৫) ও তার স্ত্রী পপি সুলতানাকে গলাকেটে এবং তাদের সন্তান পারভেজ রহমান (৯) ও সাদিয়া আক্তারকে (৩) মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হাবিবুরের ভগ্নিপতি শহিদুল, ভাগনে শাহিন এবং সবুজ রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল ৫টার দিকে তাদের গ্রেফতার করে আদালতে নেওয়া হয়। পরে আসামি সবুজ রানা আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর দুই আসামি শহিদুল ও শাহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। আজ সেই আবেদনের শুনানি নিয়ে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সবুজ রানা বলেছেন যে তার মামা নানার কাছ থেকে বেশি জমি লিখে নেওয়ায় ক্ষুব্দ ছিলেন তিনি। জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগেও মামাকে নির্বংশ করার হুমকিও দিয়েছিলেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই সবুজ, শহিদুল ও শাহিন পরিকল্পনা করে তার মামা হাবিবুর, মামি পপি সুলতানা, মামাতো ভাই পারভেজ ও মামাতো বোন সাদিয়াকে গলাকেটে হত্যা করে।
ঘটনার দিন সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে সবুজ তার মামা হাবিবুরের সঙ্গে গরু কিনতে উপজেলার ছাতড়া হাটে যান। গরু না কিনেই তারা সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে এসে তার খালু শহিদুল ও খালাতো ভাইয়েরা মিলে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।
সবুজ তার জবানবন্দিতে বলেছেন, সোমবার রাতে মামার বাড়িতে কাঠালের তরকারি দিয়ে ভাত খায় তারা। এ সময় শাহিন অন্যদের অগোচরে বাড়িতে ঢুকে একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সবুজ ভাত খেয়ে চলে যায়। খাবারের পর বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেলে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দেন। এ সময় শহিদুল ও সবুজসহ ছয়জন বাড়িতে প্রবেশ করে।
প্রথমেই সবুজ তার নানা নমির উদ্দিনের ঘরের দরজা বাইরে থেকে শিকল দিয়ে আটকে দেয়। পরে তারা একে একে হাবিবুরের কক্ষে ঢুকে। সবুজ ও শহিদুল হাবিবুরকে চেপে ধরে এবং শাহিন ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। মামি পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে অন্য ঘরে শুয়ে ছিল। শব্দ পেয়ে পপি ঘর থেকে বের হলে শহিদুল পেছন থেকে হাসয়া দিয়ে মাথায় আঘাত করে। আঘাত পেয়ে পপি পড়ে গেলে তাকে গলা কেটে হত্যা করে সবুজ। পরে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা শিশু পারভেজ ও তার বোন সাদিয়াকে গলাকেটে হত্যা করে শাহিন ও সবুজ।



