৬ জেলায় বজ্রপাতে থামল ৮ প্রাণ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
দেশের ছয় জেলায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের। আজ বুধবার দুপুর থেকে বিকালের মধ্যে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
নওগাঁ
নওগাঁর নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
বুধবার দুপুরে মহাদেবপুরের খাজুর ইউনিয়নের কুড়াপাড়া গ্রামের কৃষক দিলিপ চন্দ্র বর্মণ কুড়াপাড়া দীঘির পাড়ে জমিতে ধান কাটছিলেন। এ সময় প্রচণ্ড শব্দে তার ওপর বজ্রপাত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মহাদেবপুর থানার ওসি ওমর ফারুক জানান, মরদেহ হস্তান্তরে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই সময়ে নিয়ামতপুরের চন্দননগর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে জমি থেকে ধান তুলে নিয়ে আসার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অনুকূল চন্দ্র মাহন্তের।
একই উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের খোদ্দচাম্পা গ্রামে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন এক শ্রমিক। তিনি এসেছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার খাসেরহাট উল্লাপাড়া গ্রাম থেকে। তার পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি।
নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য, নিহত শ্রমিকের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ময়মনসিংহ
নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে বোরো ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুর রশিদ (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত চান্দু মিয়ার ছেলে।
বুধবার বিকাল ৩টার দিকে বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। আকাশে বজ্রসহ বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। একপর্যায়ে বজ্রপাত হলে তিনি ছিটকে পড়ে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে নান্দাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা জুম্মন ভূঁইয়া ঘটনাটি নিশ্চিত করেন।
নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
লালমনিরহাট
কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভুল্যারহাট বাজার এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজের সময় বজ্রপাতে ইউসুফ আলী (৪০) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার আরব আলীর ছেলে।
সকাল থেকে নিজের ভুট্টাক্ষেতে কাজ করছিলেন ইউসুফ আলী। দুপুরে বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠ থেকে ভুট্টা নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষেতে ফিরে গেলে বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক স্বর্ণা আহমেদ তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বজ্রপাতের আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
কুড়িগ্রাম
নাগেশ্বরী উপজেলার পৌর শহরের বদিজামালপুর গ্রামে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে ওবাইদুল ইসলাম নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।
বুধবার দুপুরে নিজ জমিতে ধান কাটার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। আকস্মিক বজ্রপাতে আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ওবাইদুল। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হীল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
জামালপুর
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকায় ভুট্টাক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় সোহেল মিয়ার (৩০)। তিনি ওই এলাকার শুকুর মাহমুদের ছেলে।
বুধবার সকালে নিজ ক্ষেতে ভুট্টা তুলতে গিয়েছিলেন সোহেল। বিকালে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে তিনি মাঠেই অবস্থান করছিলেন। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মৃতের স্ত্রী মদিনা বেগম জানান, বিকালে বাড়ি ফিরে সংসারের জন্য বাজার করতে যাওয়ার কথা ছিল তার স্বামীর, কিন্তু তিনি আর ফিরে আসেননি।
নাটোর
লালপুরে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম আজিজ মণ্ডল। ঘটনাটি আজ বুধবার বিকালের। উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওগাঁড়া সুলতানপুর চর এলাকার মাঠে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, নিজ জমিতে কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন আজিজ মণ্ডল। এ সময় বজ্রপাতে তার শরীরের বাম পাশের বড় অংশ পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
ঘটনাটি দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন লালপুর থানার (ওসি) শফিকুল ইসলাম।



