বরখাস্ত অধ্যক্ষের আবেদনে সভাপতি নিয়োগ, রাজশাহীতে মানববন্ধন

মানববন্ধনের স্থিরচিত্র
রাজশাহীর কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ে বরখাস্ত অধ্যক্ষের করা আবেদনের ভিত্তিতে গভর্নিং বডির নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দুর্নীতির অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় অধ্যক্ষ মো. সুজাউদ্দীন কলেজের প্যাড ব্যবহার করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতি পরিবর্তনের আবেদন করেন। আর সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সারোয়ার জাহানকে নতুন সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার দুপুরে কাকনহাট বাজারে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে নতুন সভাপতির নিয়োগ বাতিল এবং বরখাস্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তারা।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সুজাউদ্দীনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমতে থাকে। অভ্যন্তরীণ অডিটে বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ৮৭ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা। জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগও সামনে আসে।
এসব অভিযোগের পর গত বছরের ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত করা হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ও তদন্তে গঠন করেছে অডিট টিম। তবে অভিযোগ রয়েছে, বরখাস্ত থাকার পরও নানাভাবে তদন্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন তিনি।
সভাপতি পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, পুনর্বহালের উদ্দেশ্যে সুজাউদ্দীন গোপনে আবেদন করেন এবং তার প্রভাবেই গত ২৬ এপ্রিল সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সারোয়ার জাহানকে। নতুন সভাপতির বাসস্থান কলেজ এলাকার বাইরে হওয়ায় বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, কার্যত বরখাস্ত অধ্যক্ষের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছেন নতুন সভাপতি। গভর্নিং বডির সদস্যদের কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, সভাপতির পাঠানো চিঠির খসড়ায় নাম-ঠিকানাসহ অনেক কিছুই সুজাউদ্দীনের হাতে লেখা। এতে তারা প্রশ্ন তুলেছেন, বরখাস্ত একজন ব্যক্তি কীভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মো. সুজাউদ্দীন দাবি করেন, সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত, এতে কোনো প্রভাব নেই তার। নতুন সভাপতি কাউকে চিনতেন না বলেই তিনি সহায়তা করেছেন বলে অভিমত দেন সুজাউদ্দীন।
অন্যদিকে, সারোয়ার জাহান প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও পরে খতিয়ে দেখার কথা জানান। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নিজেকে বৈধ সভাপতি হিসেবেও উল্লেখ করেন সারোয়ার।



