‘ছেলেকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তা পুরোপুরি অমানবিক’

মাদ্রাসাছাত্রের পায়ে বেত্রাঘাতের দাগ। ছবি: আগামীর সময়
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে পড়া না পারার কারণে এক মাদ্রাসাছাত্রকে বেত্রাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক পালিয়ে গেলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে মারধর করেছেন এলাকাবাসী।
পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে পুলিশ।
গতকাল বুধবার উপজেলার রামশালা দারুল উলুম হাফেজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীর নাম নাহিদ হাসান (১০)।
জানা যায়, পড়া না পারার কারণে নাহিদকে মারধর করেন মাদ্রাসাশিক্ষক আবু হুরাইরা। বিকালে মাদ্রাসায় গিয়ে ছেলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ দেখতে পান নাহিদের বাবা মিজানুর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকাবাসী। অবস্থা বেগতিক দেখে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ওই শিক্ষক। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক স্থানীয় রামশালা মোড়ে এলে তাকে ঘেরাও করেন উত্তেজিত জনতা। অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তাকে অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শিক্ষার্থীর বাবা অভিযোগ করেছেন, শিক্ষক হিসেবে তিনি নাহিদকে শাসন করতে পারেন, এতে কোনো আপত্তি নেই আমার। কিন্তু ছেলেকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তা পুরোপুরি অমানবিক। একজন চোরকেও এভাবে পিটায়না কেউ। সকালে বেত্রাঘাত করা হয়েছে, অথচ সন্ধ্যায়ও তার শরীরে আঘাতের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেছেন, ‘ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই পালিয়ে গেছেন। তাকে পালাতে সহায়তা করার যে অভিযোগ উঠেছে তা ভিত্তিহীন। উত্তেজিত লোকজন মিথ্যা অভিযোগে লাঞ্ছিত করেছেন আমাকে।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মন্তব্য করেছেন, ‘ছাত্রের শরীরে আঘাতের দাগ দেখে হতবাক হয়েছি আমি। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেছেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এ ঘটনায়।’



