মাদারগঞ্জে বিদ্যুৎ নেই ৫ দিন, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার মানুষ

সংগৃহীত ছবি
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঝড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁচ দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে অন্তত পাঁচ ইউনিয়নের ৩০ হাজার মানুষ। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
গত শনিবার গভীর রাতে হওয়া ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ে এবং একাধিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর থেকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যা এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ছালাবান্দা, ছোট ভাংবাড়ি, মহিষবাথান, পূর্ব মহিষবাথান, লালডোবা, পূর্ব নলছিয়া, ইলশামারী, চরগুজামানিকা ও বাগলেরগড়, চরপাকেরদহ ইউনিয়নের দিকপাড়া; বালিজুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব তারতাপাড়া ও চরবওলা; জোড়খালী ইউনিয়নের খিলকাটি পশ্চিমপাড়া এবং গুনারীতলা ইউনিয়নের উত্তর জোড়খালী ও পূর্বপাড়াসহ অন্তত ১৫টি গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ নেই।
লালডোবা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। সন্ধ্যার পর তারা পড়াশোনা করতে পারছে না, মোবাইল চার্জ দিতে না পেরে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে। ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পূর্ব তারতাপাড়া এলাকার জিহাদ আহমেদের মতে, টানা বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে, ফলে দৈনন্দিন কাজ ও যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
ছালাবান্দা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিক উল্লেখ করেছেন, ঝড়ের পর কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকলেও দ্রুত সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এসএসসি পরীক্ষার্থী রায়হান আহমেদ বলেছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই মোমবাতি বা চার্জার লাইটের সাহায্যে পড়ছে।
মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু খুঁটি ভেঙে গেছে। কয়েকটি এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলেও জনবল সংকটের কারণে সব জায়গায় দ্রুত কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা রাত পর্যন্ত কাজ করছেন বলে তিনি জানান।



