সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
চিকিৎসককে জিম্মি করে ২০ লাখ চাঁদা দাবি

ছবিঃ আগামীর সময়
যশোরে মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক ও তার পরিবারকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ওই চিকিৎসকের শ্যালিকাকে নিখোঁজ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক হেনস্তারও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ডা. মো. রাফসানজানি।
গতকাল মঙ্গলবার ১৭ (মার্চ) যশোরে প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ডা. রাফসানজানি।
৪৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন ডা. রাফসানজানি । এরপর তার পোস্টিং হয় মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
ডা. রাফসানজানি জানান, গত ৮ মার্চ ‘স্বদেশ বিচিত্রা’র সাংবাদিক পরিচয়ধারী আসিফ আকবর সেতু তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগের কথা বলে দেখা করতে বলেন। দেখা করতে গেলে জানানো হয়, চিকিৎসকের ১৭ বছর বয়সী শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ ‘যশোর জার্নাল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে তার (ডা. রাফসানজানি) বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। সেই অভিযোগের সংবাদ না ছাপানোর শর্তে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন সেতুর এক সহযোগী।
পরে ১২ মার্চ রাতে ‘ডিবিসি নিউজ’-এর সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তাকে দেখা করতে বলেন। পরে দেখা করতে গেলে যশোর মাইকপট্টি এলাকায় ‘এশিয়ান টেলিভিশন’-এর অফিসে ডা. রাফসানজানি ও তার স্ত্রীকে জিম্মি করা হয়। সেখানে ক্যামেরার সামনে বসিয়ে ২০ লাখ টাকার ‘প্যাকেজ’ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য ১০ লাখ এবং তার শ্যালিকাকে মামলা থেকে বিরত রাখতে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে চাকরিচ্যুত ও মানহানির হুমকি দেওয়া হয়— অভিযোগ ডা. রাফসানজানির।
চিকিৎসক রাফসানজানির দাবি, তার শ্যালিকা সামিয়া আফরুজ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। গত ১৫ মার্চ তিনি বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ডিবি পুলিশের লোকেশন ট্র্যাকিংয়ে দেখা যায়, মণিরামপুর এলাকায় রয়েছেন সামিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক পরিচয়ধারী ওই চক্রটি সামিয়াকে পরিবারের কাছ থেকে আলাদা করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে দরকষাকষি করছে। বিভিন্ন মোবাইল মেসেজে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে: ‘কালকে মামলা ও নিউজ হবে। আমাদের টিম যাবে হাসপাতালে। আপনাকে আর মিটানোর সুযোগ দেয়া হবে না। আপনার ক্যারিয়ার শেষ।’
ভুক্তভোগী চিকিৎসক মনে করেন, ‘সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। কিন্তু এভাবে সংবাদ না করে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং একটি অসুস্থ মেয়েকে ব্যবহার করে পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া সাংবাদিকতার নীতিবহির্ভূত।’

