ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশু
গ্রেপ্তার এড়াতে স্থান পরিবর্তন করছিলেন সেই মাদরাসাশিক্ষক

মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর
নেত্রকোনার মদনে হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হয় ওই মাদরাসার শিশুশিক্ষার্থীর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার খবর। আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে হয় মামলা। তবে গত ১৮ এপ্রিল থেকে আত্মগোপনে ওই শিক্ষক।
গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে। র্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে কয়েকবার অবস্থান পরিবর্তন করেছিলেন আমান উল্লাহ।
আজ বুধবার দুপুরে নগরের আকুয়া বাইপাস এলাকায় র্যাব-১৪-এর প্রধান কার্যালয়ে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বাহিনীটি। নয়মুল হাসান বলেছেন, ‘অভিযুক্ত মাদরাসাশিক্ষক প্রথমে ছিলেন গাজীপুরে। পরে যান টঙ্গীতে। সর্বশেষ আত্মগোপনে ছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। কোনো মোবাইল ব্যবহার করছিলেন না তিনি। এ কারণে তাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। গোয়েন্দা নজরদারিতে পরে শনাক্ত হয় তার অবস্থান। গৌরীপুরের সোনামপুরে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।’
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানালেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তেমন কোনো তথ্য দেননি। আজ বিকালে সংশ্লিষ্ট থানায় তাকে হস্তান্তর করা হবে।
মদন থানায় ওই ছাত্রীর মায়ের করা ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি আমান উল্লাহ।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বরে শিক্ষক আমান উল্লাহ মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ভয় দেখান প্রাণনাশের। অসুস্থ বোধ করায় পাঁচ মাস ধরে মাদ্রাসায় যায়নি শিশুটি। শারীরিক পরিবর্তনের খবরে সিলেট থেকে আসেন মা। এরপরই জানা যায় ধর্ষণের ঘটনা।
গত ১৮ এপ্রিল শিশুটিকে মদন উপজেলা শহরে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, শিশুটি প্রায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার আল্ট্রাসোনোগ্রাফির ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন চিকিৎসক সায়মা আক্তার। ভাইরাল হয় সেটি, ফেসবুকে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
গত সোমবার রাতে ফেসবুকে ভিডিওবার্তা পোস্ট করেন ওই শিক্ষক। নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন তিনি।




