মাতৃত্বকালীন ভাতায় অনিয়ম
তালিকায় নাম থাকলেও বঞ্চিত অন্তঃসত্ত্বা, টাকা তোলেন মেম্বারের স্ত্রী

তালিকায় নাম থাকলেও তিন বছরে কোনো অর্থ পাননি মোছা. ছুম্মা (৩০)। ছবি: আগামীর সময়
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নে মাতৃত্বকালীন ভাতার টাকা অন্যের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভাতা তালিকায় নাম থাকলেও তিন বছর ধরে কোনো অর্থ পাননি পূর্ব মালঞ্চ গ্রামের আলমগীরের স্ত্রী মোছা. ছুম্মা (৩০)।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন তাকে বলা হয়েছে ভাতার কার্ড হয়নি। পরে উপজেলা পরিষদে গিয়ে যাচাই করলে দেখা যায়, তার নামে ভাতা অনুমোদিত হলেও হিসাব নম্বরের জায়গায় যুক্ত রয়েছে অন্য একটি নম্বর। ওই নম্বরেই নিয়মিত পাঠানো হয়েছে ভাতার টাকা।
জানা গেছে, দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য চালু এই কর্মসূচিতে মাসে ৮০০ টাকা করে ভাতা দেওয়ার কথা। সেই হিসেবে তিন বছরে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এক টাকাও পাননি ছুম্মা।
লিখিত অভিযোগে ছুম্মা উল্লেখ করেছেন, তার মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে টাকা না গিয়ে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনের ব্যক্তিগত নম্বরে পাঠানো হয়েছে ভাতা। এতে সরকারি এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।
ছুম্মার ভাষ্য, কাগজ দেওয়ার এক মাস পর থেকে তিনি মেম্বারের কাছে ভাতার বিষয়ে জানতে চাইতেন। বারবার তাকে বলা হয়েছে, কার্ড হয়নি। সাত মাস পরও একই উত্তর পান। পরে উপজেলা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, ভাতা চালু রয়েছে তার নামে।
তিনি জানান, কাগজ জমা দেওয়ার সময় তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছিল। তখন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। এখন তার মেয়ের বয়স তিন বছর। কিন্তু এক মাসের টাকাও তিনি পাননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভাতার তালিকায় থাকা নম্বরে যোগাযোগ করলে ফোনটি রিসিভ করেন ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনের স্ত্রী। তিনি জানান, এটি তার ব্যক্তিগত নম্বর। মেম্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, তিনি বাইরে আছেন।
পরে ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, আবেদন করার সময় তার মোবাইল নম্বর নগদে নিবন্ধিত না থাকায় সেটি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি দাবি করেন, তিন ধাপে মোট ১৭ হাজার টাকা দিয়েছেন ছুম্মাকে। প্রথমে ১০ হাজার, পরে ৫ হাজার এবং সর্বশেষ ২ হাজার টাকা দিয়েছেন। গত জুলাই থেকে টাকা দেওয়া বন্ধ আছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে আবেদন করেছেন নম্বর পরিবর্তনের জন্য। বকেয়া থাকলে তা পরিশোধ করবেন বলে জানিয়েছেন ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন।
এ বিষয়ে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আঁখির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই বিরক্তি প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন।
মেলান্দহ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জান্নাতুন নাহার বলেছেন, ‘অভিযোগটি আমি পায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাতুল আরা জানিয়েছেন, একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। কেন এমন হয়েছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নম্বর সংশোধন করে ভুক্তভোগী যেন ভাতা পান, সে ব্যবস্থাও করা হবে বলেও জানান।



