মফস্বল সাংবাদিকতা
মানুষের গল্প বললেও নিজেদের দুঃখ বলার জায়গা নেই

ছবি: আগামীর সময়
বিশ্বজুড়ে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশের মফস্বল সাংবাদিকদের বড় একটি অংশ এখনও বেতন-বৈষম্য, অনিশ্চিত আয় ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কাজের তুলনায় তাদের পারিশ্রমিক অত্যন্ত কম। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত বেতনও পান না। পাশাপাশি পেশাগত ঝুঁকি ও সামাজিক অবমূল্যায়ন হয়ে উঠেছে তাদের জীবনের অংশ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুরের এক সংবাদকর্মী আক্ষেপ করে জানান, মানুষের কথা, মানবতার কথা এবং অন্যায়-অবিচারের খবর তুলে ধরলেও নিজেদের দুর্দশার কথা বলার জায়গা নেই। তার ভাষ্য, বেতন বৈষম্যের শিকার হলেও অভিযোগ জানানোর মতো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
আরেকজন সংবাদকর্মী তুলে ধরেন, প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠে কাজ করতে হয়। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়েও তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়।
মফস্বল সাংবাদিকদের আরেকটি বড় অভিযোগ, তাদের কাজের স্বীকৃতি ও সম্মান দুইই কম। তারা দাবি করেন, একটি জাতীয় পত্রিকা বা গণমাধ্যমের পূর্ণতা পেতে মফস্বলের খবর অপরিহার্য হলেও সেই কর্মীদের মূল্যায়ন যথাযথ হয় না। একজন সংবাদকর্মী মন্তব্য করেন, মিডিয়া হাউজের দারোয়ান বা পিয়নের সমান বেতন না পেলেও দিনরাত পরিশ্রম করে খবর সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে হয়।
তাদের ভাষ্য, কাজের চাপে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাড়ি ফেরা সম্ভব হয় না। পরিবার সব সময় উদ্বেগে থাকে। অনেক সময় হামলা, মামলা কিংবা প্রাণনাশের হুমকির মুখেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। তবুও পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণে তারা কাজ চালিয়ে যান।
একজন জানান, ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান না। কারণ তারা নিজেদের সমাজের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে মনে করেন।
একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে, যারা যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই পরিচয়পত্র দিয়ে অপেশাদারদের সাংবাদিকতার সুযোগ দিচ্ছে। এতে প্রকৃত সাংবাদিকদের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের এক নেতা মন্তব্য করেন, এ ধরনের কার্যক্রম অপসাংবাদিকতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর দায় মিডিয়া হাউজগুলোর।
শ্রমিক দিবসে মফস্বল সাংবাদিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার, ন্যায্য বেতন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং সাংবাদিকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে।



