‘হামে’ প্রাণ গেল ছোট্ট সাফার

ছবিঃ আগামীর সময়
১৩ মাস বয়সি প্রাণবন্ত ছোট্ট শিশু সাফা। হঠাৎ করেই তীব্র জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে শিশুটি। জ্বরের সঙ্গে শরীরে ছোট ছোট র্যাশ দেখা পরিবার দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে শেষ রক্ষা আর হলো না। বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি।
মারা যাওয়া শিশু সাফা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধুলটিয়া গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের মেয়ে।
সাদ্দাম হোসেন জানান, গত ৩১ মার্চ রাতে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয় সাফা। শরীরে ছোট ছোট র্যাশ আর শ্বাসকষ্ট হওয়ায় হামের শঙ্কা নিয়ে ২ মার্চ তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবোধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার হাতিলা গ্রামের সোহেল রানার ৮ মাস বয়সী ছেলে সায়ফালও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট দুই শিশুর মৃত্যু হলো।
এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর বাবা সোহাগ মিয়া জানান, তার ছেলে দীর্ঘ দেড় মাস ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রথমে ব্যুরো হাসপাতাল, পরে মির্জাপুর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, সেখান থেকেই তার ছেলের হামের সংক্রমণ শুরু হয়।
হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ সাইফুল ইসলাম জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি দ্রুত ছড়িয়ে যেতে পারে। তিনি শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি অভিভাবকদের অনুরোধ করেন, শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা দেওয়া এবং জ্বর, ফুসকুড়ি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য।
হাসপাতালে তত্ত্বাবোধায়ক খন্দকার সাদিকুর রহমান জানান, হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ায় আলাদা একটি ওয়ার্ডের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। তাই হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি হামের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে ২৩ জন শিশুই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাম সংক্রমণ প্রতিরোধে সচেতনতা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুদের সঠিক টিকা প্রদান, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রতিটি অভিভাবকের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

