পহেলা বৈশাখ
এবারও নাগালের বাইরে ইলিশ

ছবিঃ আগামীর সময়
বাঙালি জাতির অন্যতম উৎসব পহেলা বৈশাখ। চিরায়ত ঐতিহ্যের অংশ না হলেও দিনটিতে অনেকেই পান্তা ভাত আর ইলিশ মাছ রাখতে চান খাবারের তালিকায়। বছরজুড়েই বেশি থাকে জাতীয় মাছের দাম। কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ সময়ে ইলিশের দাম থাকে আকাশছোঁয়া।
আজ সোমবার সকালে দিনাজপুর সদরের সবথেকে বড় বাহাদুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য দুই হাজার দুইশ’ থেকে চার হাজার টাকা। বাজারে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দামের কারণে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি ক্রেতাদের।
এই বাজারে চারশ-পাঁচশ গ্রাম ওজনের ইলিশ দুই হাজার দুইশ’ টাকা ও পাঁচশ-আটশ গ্রাম ইলিশ দুই হাজার চারশ’ টাকা। প্রতি কেজি ইলিশের দাম তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। অথচ এক সপ্তাহ আগেও কেজিপ্রতি ইলিশের দাম ছিল দুই হাজার টাকার নিচে।
ইলিশ কিনার ইচ্ছা থাকলেও সকাল ৭টার দিকে বাজারে গিয়ে হতাশ কলেজ শিক্ষক মোক্তার হোসেন।
তিনি আগামীর সময়ের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন, ‘বাজারের লিস্টে ইলিশ রেখেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে দাম শুনে হতবাক আমি। ইলিশ কিনতে গেলে নিত্য প্রয়োজনীয় অন্যকিছু কিনতে পারবনা। আমাদের দেশের মাছ অথচ আমরাই খেতে পারি না। ইলিশ এখন এক বিলাসিতার নাম।
দাম শুনে বিকল্প চিন্তা করে বাজার সারছেন মোক্তারের মতো এরকম অনেক ক্রেতাই।
মৎস্য বিক্রেতারা বলছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে পাঁচশ থেকে সাতশ টাকা। আড়ত থেকেই চড়া দামে কিনতে হয়েছে মাছ। বৈশাখ ঘিরে বাজারে চাহিদা কিছুটা বেশি হওয়ায় দামও বেশি।
উল্লেখ্য সরকারি ভাবে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬ শুরু হয়েছে ৭ এপ্রিল এবং ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত সব ধরনের মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ থাকবে বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন নদীতে। ইলিশের প্রজনন ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য জাটকা সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



