হালখাতা এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা, হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্য

ছবিঃ আগামীর সময়
পহেলা বৈশাখ মানেই নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ। আর এই দিনটিকে ঘিরে একসময় ব্যবসায়ীদের অন্যতম আয়োজন ছিল হালখাতা। তবে সময়ের পরিবর্তনে হিসাব-নিকাশের ধরন বদলে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্য এখন বিলুপ্তির পথে।
গতকাল বুধবার ভোলা শহরের চকবাজার, কাঁচাবাজার ও সদর রোড এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বী পুরনো ঘরানার কিছু ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, গণেশ পূজার আচার মেনে নতুন হালখাতা খোলা হচ্ছে। দোকানে দোকানে ঢাকঢোল আর পূজার আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কাপড়ের দোকানি গোপাল সাহা জানান, প্রতিবছরই এই দিনে পালন করা হয় হালখাতা উৎসব। তবে আগে এ উৎসবের যে আমেজ ছিল, তা এখন আর নেই। ব্যবসায়ী হিসেবে পূর্বপুরুষদের দেখানো পথে হাঁটছেন শুধু তারা।
পহেলা বৈশাখ এলেই পুরনো হিসাব-নিকাশ মেটাতে একসময় প্রতিটি দোকানে জাঁকজমকভাবে করা হতো হালখাতা উৎসব। ব্যবসায়ীদের আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে মিশে ছিল উৎসবটি। হালখাতায় লিপিবদ্ধ থাকত সারাবছরের লেনদেন। বছরের প্রথম দিনে বকেয়া পরিশোধ করে নতুন করে শুরু হতো লেনদেন। খদ্দেরদের জন্য থাকত মিষ্টি-মিঠাইসহ নানা আয়োজন। আগেভাগেই পাঠানো হতো নিমন্ত্রণপত্র। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে সেই চিত্র। নগদ বিক্রির কারণে কমে গেছে বাকির প্রচলন। ফলে অনেক দোকানেই নেই হালখাতার আনুষ্ঠানিকতা।
ডিজিটাল যুগের এ সময়টাতে শপিংমলসহ আধুনিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হিসাব-নিকাশ হচ্ছে কম্পিউটারের মাধ্যমে। আর লেনদেন হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং ও কার্ডের মাধ্যমে। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সব কাজে অনেকাংশে কমে এসেছে খাতার প্রয়োজন।
চকবাজারের সুমাইয়া শাড়িঘরের মালিক মো. জসিম জানান, আগে ক্রেতাদের বাকি নেওয়ার প্রবনতা ছিল বেশি। এখন লোকজন বাকি নেয় খুব কম, আবার ব্যবসায়ীরাও তেমন বাকি দিতে চান না। অন্যদিকে লেনদেনে যুক্ত হয়েছে আধুনিক অনেক সুযোগ-সুবিধা। এসব কারণে বাকিতে লেনদেনের কোনো খাতা এখন আর রাখা হয় না । এর জন্য হালখাতা উৎসবটি বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়।
চকবাজারের রেনুকা বস্ত্রালয়ের স্বত্বধিকারী অসীম কুমার সাহা জানান, পূর্বপুরুষের দেখানো নিয়মরীতি অনুযায়ী, এখনও হালখাতার প্রচলন ধরে রেখেছেন শুধু পুরনো ঘরানার ব্যবসায়ীরা। তবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানে না হালখাতার ইতিহাস বা নিয়ম-কানুন। আগে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায় একসঙ্গে পালন করত এই উৎসব। তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ ছিল না। এখন আর আগের মতো সেই আনন্দ হালখাতা উৎসবে নেই। এরপরেও বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।



