সাতক্ষীরার আশাশুনি
লোনাপানিতে তলিয়ে গেছে ১০ হাজার বিঘা ধানক্ষেত

ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় রাতের আধারে স্লুইসগেট খুলে দেওয়ায় লোনাপানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার বিঘা ধানক্ষেত। এ ঘটনায় বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিবেশগত বিপর্যয়ের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা কালকি স্লুইসগেটের পাট খুলে দেওয়ায় কপোতাক্ষ নদের লোনা পানি খাল হয়ে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের কৃষিজমিতে প্রবেশ করে। এতে গজুয়াকাটি, রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, খালিয়া ও ফটিকখালীসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে যায়।
গজুয়াকাটি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শিবপ্রসাদ মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে রাতের অন্ধকারে স্লুইসগেটের পাট খুলে দেওয়া হয়। এতে পূর্ব ও পশ্চিম বিলের প্রায় ৭০০ বিঘা জমির ধান এবং পুকুরগুলো লোনা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। গাছপালারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষক সতীশ চন্দ্র বৈদ্য বলেছেন, এখনো শেষ হয়নি ধান কাটার কাজ। এর মধ্যেই লোনা পানি ঢুকে পড়ায় শুধু ফসল নয়, সংকট দেখা দিয়েছে খাবার পানিরও। চরম বিপাকে পড়েছে গবাদিপশুও।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউনুস আলী দাবি করেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে চেউটিয়া খালের কালভার্টের পাট খুলে দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাউতাড়া, গোয়ালডাঙ্গা, পিরোজপুর, দুর্গাপুর ও খালিয়া গ্রামের কয়েক হাজার বিঘা জমি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রামপদ সানা জানান, গত ১৫ দিন ধরে কপোতাক্ষ নদের লোনা পানি চেউটিয়া খাল হয়ে ফটিকখালীসহ আশপাশের এলাকায় ঢুকছে, ফলে ধানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে কৃষকদের।
খাজরা ইউনিয়ন নদী-খাল সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য হাবিবুর রহমান বলেছেন, স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনায় তদারকির ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, মাছ চাষের উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটাতে পারে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকায় একটি প্রভাবশালী মহল মাছ ধরার স্বার্থে গেট নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে পাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়নি।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামা নন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত স্লুইসগেট মেরামত ও পানি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।



