আগামীর সময়ে সংবাদ প্রকাশ
জমি উদ্ধারে মাঠে নেমেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ

ছবি: আগামীর সময়
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে রেলওয়ের দখল করা জমি উদ্ধারে অবশেষে মাঠে নেমেছে কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার সকালে মাটিকাটা রেলগেট থেকে রতনপুর রেলগেট বটতলা পর্যন্ত গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি ও বাণিজ্যের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দৈনিক আগামীর সময় অনলাইনে ‘ম্যানেজ করেই সব হচ্ছে, টাকা দিলেই মেলে রেলওয়ের জায়গা’ এই শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেললাইনের পাশ জুড়ে গড়ে ওঠা শতাধিক টিনশেড ঘর, দোকানপাট ও অন্যান্য অবৈধ স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা সরকারি জমির বড় অংশ দখলমুক্ত হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, রেলওয়ের জনবল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একযোগে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম। এ সময় জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক কাইয়ুমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রেলের জমি দখল করে ঘর নির্মাণ ও ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত অভিযান পরিচালনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম বলেছেন, রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখল করে রাখার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট খাতে লাইসেন্স থাকলেও সেখানে বসতঘর নির্মাণ করা যাবে না। উচ্ছেদের পর কেউ পুনরায় দখল করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি একই এলাকায় প্রায় ২০০টি অবৈধ ঘর নির্মাণের অভিযোগ তুলে দৈনিক আগামীর সময়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরদিনই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধু উচ্ছেদ নয়, দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আবারও আগের মতো হয়ে যেতে পারে।




