স্বামী মারা যাওয়ায় ফারহানাকে বের করে দেওয়া হয়েছে শ্বশুরবাড়ি থেকে!

ছবি: আগামীর সময়
স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফারহানা আক্তার (৩৬)। শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তানসহ ফারহানাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। এ সময় তার স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। আইনি অধিকারের জন্য তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নড়াইলের লোহাগড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার তার দুঃখ-বেদনার কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন এভাবেই।
তিনি জানাচ্ছেন, ২০০৯ সালে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা এলাকার মুকুল মোল্যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। জীবিকার তাগিদে তার স্বামী চাকরি করেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। সর্বশেষ কর্মরত ছিলেন লোহাগড়ার রামপুর নিরিবিলি পিকনিক স্পটের টিকিট কাউন্টারে ম্যানেজার পদে।
গত বছরের (২০২৫) ২৭ আগস্ট ফারহানার স্বামী মুকুল মোল্যা কর্মস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তিনি মারা গেছেন হৃদরোগে।
স্বামীর মৃত্যুর পর ফারহানা তাদের একমাত্র সন্তান ফারদিন মোল্যাকে (১৪) নিয়ে বসবাস করছিলেন শ্বশুরবাড়ি লক্ষীপাশাতে।
এখান থেকে চাকরিচ্যুত করতেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে অপবাদ
তবে, স্বামীর মৃত্যুর প্রায় ২৩দিন পর ওই বছরের (২০২৫) ২০ সেপ্টেম্বর শাশুড়ি লিলিয়া বেগম, ভাসুর বাবুল মোল্যা, ননদ রিনা পারভীন, সুমি বেগম পরস্পর যোগসাজগে ফারহানাকে তার সন্তানসহ ঘর থেকে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এ সময় ফারহানার স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র আটকে রাখা হয়।
বর্তমানে তার একমাত্র সন্তান লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ফারদিন মোল্যাকে নিয়ে লক্ষীপাশায় ভাড়া বাসায় আছেন ফারহানা আক্তার। মানসিক যন্ত্রণা ও আর্থিক সংকটে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাছে তার।
ফারহানা আক্তার বলছেন, স্বামীর মৃত্যুর পর তারই কর্মস্থল নিরিবিলি পিকনিক স্পটে চাকরি করছি স্বল্প বেতনে। এখান থেকে চাকরিচ্যুত করতেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন উঠেপড়ে লেগেছে। আমার বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে অপবাদ।
সংবাদ সম্মেলনে ফারহানা আক্তার বলছেন, আমি স্বামীর বসতভিটায় থাকতে চাই। এজন্য প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
এ ব্যাপারে ননদ সুমি বেগমসহ অভিযুক্তরা বলছেন, আমরা তো বাড়িতেই থাকি না। ঢাকায় থাকি। বাড়িতে থাকেন শুধু বৃদ্ধ মা এবং ভাড়াটিয়ারা। বরং আমাদের ভাবি ফারহানাকে বাড়ি থেকে না যেতে অনুরোধ। কিন্তু তিনি নিজ ইচ্ছায় চলে গিয়ে অপপ্রচার করেছেন আমাদের বিরুদ্ধে।



