গাজীপুর
লোডশেডিংয়ে ঘুরছে না কলকারখানার চাকা

সংগৃহীত ছবি
লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গাজীপুরের জনজীবন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থরা। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত কলকারখানার উৎপাদন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জেলায় প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা করে হচ্ছে লোডশেডিং। যখন-তখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কলকারখানার চাকা। থমকে যাচ্ছে উৎপাদন। ডিজেল-পেট্রল সংকটের কারণে চালানো যাচ্ছে না জেনারেটরও। একই অবস্থা কালিয়াকৈর, শ্রীপুর, কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলায়ও। নগরীর চেয়ে গ্রামের অবস্থা আরও বেশি খারাপ। ফলে তীব্র গরমে একদিকে যেমন জনজীবন অতিষ্ঠ, অন্যদিকে উৎপাদন কমে ব্যাহত হচ্ছে রপ্তানি বাণিজ্য।
লোডশেডিংয়ের কবলে শহর ও গ্রাম
প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ গ্রামের মানুষ। একদিকে মশার উৎপাত, অপরদিকে মশারির ভেতর অসহ্য গরম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে ঘুরছে না ফ্যান। সন্ধ্যা পার হলেই অন্ধকারে ডুবছে গ্রাম। হাটবাজারগুলোয় নেই আলোর ঝলকানি। গাজীপুর জেলা ও মহানগরীর প্রতিটি এলাকাতে প্রায় একই চিত্র।
গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। রাতভর না ঘুমিয়ে ছটফট করছেন সবাই। গ্রামের হাসপাতালগুলোয় লোডশেডিং হচ্ছে ঘণ্টায় ঘণ্টায়। এ পরিস্থিতিতে শুধু গ্রাহকই নন, অতিষ্ঠ সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও। তাদের অভিযোগ, চাহিদার তিনভাগের একভাগ বিদ্যুৎও যাচ্ছে অনেক স্থানে। সরবরাহ পাচ্ছেন অল্প যেটুকু, তা দিয়ে গ্রামের ভিআইপি এবং প্রভাবশালীদের সামাল দিতেই খেতে হচ্ছে হিমশিম।
স্থানীয়রা জানাচ্ছিলেন, শহরের তুলনায় গ্রামের লোডশেডিং বেশি। শহরে গুরুত্বপূর্ণ আবাসন, শিল্পকারখানা, বড় বড় অফিস-আদালত; তাই সরবরাহও বেশি। বড় শহরের কোনো একটি অংশে কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে ফোন। বিপরীতে গ্রামে লোডশেডিং হলে এমন কিছু হয় না। বরং বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায় থাকেন তারা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শহরের তুলনায় গ্রামে লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ বেশি। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে শহরের বেশিরভাগ অফিস-আদালত, শিল্পকারখানা, আবাসিক এলাকা, কিংবা বাড়িতে থাকে জেনারেটর বা আইপিএস। কিন্তু গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে নেই এসব।
গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া এলাকার বাসিন্দা কামরুন নাহার বলছিলেন, আধা ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকার পর চলে যায় এক ঘন্টা। ফ্যান বন্ধ হয়ে গেলে গরমে টিকে থাকা মুশকিল। আইপিএস চার্জ হওয়ার মতো সময়ও পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম জানাচ্ছিলেন, এখানে পিক আওয়ার কিংবা অফ-পিক আওয়ার বলে কিছু নেই। অনেক সময় লোডশেডিং হয় ভোরে। বিদ্যুৎ বিতরণের অবস্থা কতটা করুণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঘুরছে না কলকারখানার চাকা
গাজীপুরে রয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার শিল্প-কারখানা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে কমেছে এসব কারখানার উৎপাদন। ডিজেল সংকটে জেনারেটরও চালানো যাচ্ছে না বেশিক্ষণ। কারখানার শ্রমিকরাও বসে থাকছেন বেকার।
ইয়ান নিট কম্পোজিট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হাসান বলছিলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে মেশিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, উৎপাদন কমে গেছে অনেক।’
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানাচ্ছে, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৪৮৪ মেগাওয়াটের বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৩১২ মেগাওয়াট। গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর চাহিদা ১৪০ মেগাওয়াট, বিপরীতে মিলছে ৯০ মেগাওয়াট। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতায় শ্রীপুর ও মাওনা অঞ্চলে ১৫০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ মেগাওয়াট। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর অধীন কালিয়াকৈর উপজেলায় চাহিদা ২০০ মেগাওয়াট, পাওয়া যাচ্ছে ১২০ মেগাওয়াট।
সমিতি-১-এর মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার আজাদের ভাষ্য, চাহিদার তুলনায় ১৭২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম সরবরাহ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গড়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে ৩০ শতাংশ। এতে জেলায় গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা থাকছে না বিদ্যুৎ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন বলেও দাবি তার।



