পানির নিচে তলিয়ে গেছে টিনের ঘরের স্বপ্ন

ছবি: আগামীর সময়
একটি টিনের ঘর মেরামত করে নতুন ঘরের স্বপ্ন নিয়ে সঞ্চয়ের সব টাকায় ধান লাগিয়েছিলেন ৫০ কাঠা জমিতে। তবে পুরোপুরি পাকার আগেই শুরু হয় বৃষ্টি। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কষ্ট করে কাটতে পেরেছেন মাত্র ১২ কাঠা জমির ধান। কিন্তু এক রাতের মধ্যে বাকি জমি তলিয়ে গেছে পানির নিচে।
এভাবেই নিজের অভিজ্ঞতা জানাচ্ছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চল্লিশ-কাহনিয়া গ্রামের কৃষক আসাদুজ্জামান। তার ভাষ্য, এখন পানির নিচে হারিয়ে গেছে সব স্বপ্ন এবং বন্ধ হয়ে গেছে খেয়ে-পড়ে বাঁচার পথও।
টানা ভারী বৃষ্টি ও শ্রমিক সংকটে নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে পাকা ধান ঘরে তুলতে পারেননি আসাদুজ্জামানের মতো শত শত কৃষক। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল। এতে করে কৃষকদের জীবিকা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। একমাত্র বোরো ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেকেই।
জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণে দ্রুত বাড়তে থাকে পানির উচ্চতা। কৃষকরা জানিয়েছেন, সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় অনেকেই কাটতে পারেননি জমির পাকা ধান। ফলে এক রাতের মধ্যেই ফসল তলিয়ে গেছে পানির নিচে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানাচ্ছে, জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে ১৩৪টি হাওর। আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় এ বছর নির্মাণ করা হয় ১৩৮ কিলোমিটার ডুবন্ত অস্থায়ী বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে এসব বাঁধ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩১ কোটি টাকা। জেলায় বোরো চাষ হয়েছে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪৪৭ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় রয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর জমি। সরকারি হিসাবে ধান কাটা হয়েছে মাত্র ৬৫ শতাংশ।
তবে কৃষকদের দাবি, বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি। তাদের ভাষ্য, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমির ধান।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণ করায় ফসল রক্ষা সম্ভব হয়নি। তারা মনে করেন, কৃষকদের রক্ষায় স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি স্লুইস গেট বসানো, নদী ও খাল খননের মাধ্যমে পানি ধারণ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে এমন ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।



