আগামীর সময়

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে ৬ মৃত্যু: তদন্তে মেলেনি গ্যাস লিকের প্রমাণ

চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে ৬ মৃত্যু: তদন্তে মেলেনি গ্যাস লিকের প্রমাণ

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের হালিশহরে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা নাকচ করেছে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (কেজিডিসিএল)। তদন্তে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের কোনো আলামত মেলেনি বলে দাবি সংস্থাটির। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেনি তদন্ত দল। 

ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসন কমিটি করলেও এখন পর্যন্ত জমা হয়নি তাদের প্রতিবেদন। 

এক মাস হতে চলল এ ঘটনার। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামের ওই ভবনে তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণে লাগে আগুন। দগ্ধ হন তিন ভাইয়ের পরিবারের ৯ সদস্য। ঢাকায় বার্ন ও প্লাস্টিক র্সাজারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করার পর একে একে মারা যান ছয়জন।

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ধারণা করেছিলেন, রান্নাঘরে গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে।

কেজিডিসিএল ঘটনাটি তদন্ত করে তিন সপ্তাহের মাথায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জমা দিয়েছে প্রতিবেদন। সংস্থাটির বিতরণ উত্তর বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রফিক খান ছিলেন কমিটির প্রধান।

প্রতিবেদনে বলা আছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রান্নাঘরের চুলা, চুলার পেছনের গ্যাস লাইন, নবসহ আশপাশের বেশ কিছু জিনিসপত্র প্রায় অক্ষত পাওয়া গেছে। চুলার পেছনের লাইনে সামান্য লিক পাওয়া গেছে। তবে সেটি বিস্ফোরণের কারণেরও হয়ে থাকতে পারে। ওই লিক থেকে সেখানে গ্যাস জমে থাকার কথা নয়। কারণ রান্নাঘরে আছে দুটি দরজা, বড় জানালা ও পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন।

কেজিডিসিএলের তদন্ত বলছে, ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা শাখাওয়াত হোসেন ছিলেন মোটর পার্টস ব্যবসায়ী। ফ্ল্যাটে রাখা ছিল গাড়ির যন্ত্রাংশের কিছু কমপ্রেসিং ইউনিট ছিল, যেগুলোতে উচ্চ চাপে গ্যাস থাকে। গাড়িতে রং করার কাজে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থও সেখানে সংরক্ষণ করা ছিল। এসব দাহ্য পদার্থ থেকে কোনোভাবে আগুনের সঞ্চার হয়ে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুতের সংযোগ, রাসায়নিক পদার্থ বা যন্ত্রাংশ—এসবের যে কোনোটি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. জসীম উদ্দিনের ভাষ্য, ‘প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে। কেউ বলছেন লিফট, কেউ এসি, আইপিএস বা বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কথা বলছেন। আবার কেউ রাসায়নিক বা বাইরে থেকে নাশকতার মাধ্যমে বিস্ফোরণের কথাও উল্লেখ করেছেন। সব বিষয় তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখছে। দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছিলেন শাখাওয়াত হোসেন , তার স্ত্রী ও দুই সন্তান, তার প্রবাসী ভাই সামির আহমেদ ও সামিরের স্ত্রী-দুই সন্তান এবং শাখাওয়াতের ছোট ভাই শিপন হোসেন। একে একে মারা গেছেন তিন ভাই, দুই ভাইয়ের স্ত্রী এবং শাখাওয়াতের ছেলে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আইমান (১০) এবং সামিরের দুই সন্তান ফারহান আহমেদ (৬) ও আয়েশা (৪)।

    শেয়ার করুন: