কিশোরগঞ্জ
বন্যায় তলিয়ে গেছে ৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান

কিশোরগঞ্জে বন্যায় তলিয়ে গেছে ৯ হাজার হেক্টর বোরো ধান। ছবি: আগামীর সময়
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে নতুন করে পানির নিচে তলিয়ে গেছে আরও প্রায় ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি। এতে জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টরে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইটনা উপজেলার কৃষকরা, যেখানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পরিস্থিতি।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান। গতকাল শনিবার বিকেল পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ পৌঁছেছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টরে। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে কিছুটা কমতে পারে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পানির প্রবাহে জেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পাকা ও আধাপাকা বোরোধানের হাজার হাজার হেক্টর জমি ডুবে গেছে। প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু ইটনা উপজেলাতেই। উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে অষ্টগ্রাম উপজেলাতেও।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ধান কাটার মৌসুমে এমন বন্যা তাদের জন্য বড় ধাক্কা। ক্ষেত থেকে ধান তুলতে পারেননি অনেকেই। যারা ধান কেটে খলায় রেখেছেন, বিপাকে পড়েছেন তারাও। টানা বৃষ্টি ও রোদের অভাবে ধান শুকাতে না পারায় তৈরি হয়েছে চারা গজানো ও পচনের আশঙ্কা।
নিকলী আবহাওয়া অফিস জানাচ্ছে, শনিবার রেকর্ড করা হয়েছে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ মিলিমিটার এবং দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। নতুন করে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি করেছে এই বৃষ্টিপাত।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বেড়েছে জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর পানির স্তর। ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ০৬ মিটার, যা আগের দিনের তুলনায় ৫ সেন্টিমিটার বেশি। চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২ দশমিক ৭৩ মিটার, বেড়েছে ১০ সেন্টিমিটার। অষ্টগ্রামে কালনী নদীর পানি ২ দশমিক ৪৫ মিটার, বেড়েছে ১৫ সেন্টিমিটার। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কমে ১ দশমিক ৮০ মিটারে নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেনের ভাষ্য, সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে পরিস্থিতি। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের। দ্রুত ধান কেটে নিরাপদে ঘরে তোলার পরামর্শ আগেই দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।



