ভুয়া সেনা পরিচয়ে প্রতারণা, ডিএনএ প্রমাণে যাবজ্জীবন সাজা

ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বিয়ের প্রলোভনে এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে জনি ওরফে রাজিম (২৮) নামের এক তরুণকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ দেওয়া হয়েছে অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড।
গতকাল বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়নাল আবেদীন আসামিদের অনুপস্থিতিতে দেন এ রায়। দণ্ডপ্রাপ্ত জনি উপজেলার ষোলদাগ গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে জনি নিজেকে সেনাসদস্য পরিচয় দিয়ে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে গড়ে তোলেন প্রেমের সম্পর্ক।
২০২২ সালের ১ জানুয়ারি রাতে ছাত্রীর বাড়িতে মা-বাবার অনুপস্থিতির সুযোগে তাকে প্রথমবার ধর্ষণ করেন জনি। এরপর বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অসংখ্যবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী তরুণী হয়ে পড়েন অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টি পারিবারিকভাবে জানাজানি হলে বিয়ের জন্য চাপ দিলে অভিযুক্ত জনি বন্ধ করে দেন যোগাযোগ।
২০২৩ সালের ২ মার্চ কলেজছাত্রী জন্ম দেন একটি ছেলে সন্তানের। সন্তানের পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ২০২৩ সালের ২২ জুন মেয়েটি কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে করেন মামলা।
মামলার তদন্ত শেষে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এজাহারভুক্ত একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে আনা হয় ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ। ভেড়ামারা থানার এসআই মিন্টু মিয়া ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর আদালতে এ ঘটনায় দাখিল করেন চার্জশিট।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ বলছিলেন, ‘২০২৩ সালের ১৫ জুলাই আসামি জনি গ্রেপ্তারের পর ছিলেন কারাগারে। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি পলাতক এখন পর্যন্ত।’



