মাদারীপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, বাড়ি ভাঙচুরসহ আহত ১০

ছবিঃ আগামীর সময়
মাদারীপুরে শামসু সরদার ও হাবিব হাওলাদারের মধ্যে ঘটেছে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা। এতে ভাঙচুর করা হয়েছে ২০টি বসতবাড়ি ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের ১০ জন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। ভয়ে অনেক মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার মস্তফাপুরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার শামসু সরদার (ওরফে কোপা শামসু) ও হাবিব হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল দীর্ঘদিন ধরে। বিরোধের জেরে শুক্রবার সকালে শামসু সরদার গ্রুপের লোকজন প্রথমে মস্তফাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মোবাইলের দোকান, একটি হোটেল এবং একটি মুদি দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকানগুলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয় বলে অভিযোগ। পরে তারা হামলা চালায় হাবিব হাওলাদার গ্রুপের সমর্থক ঢালী বংশের কয়েকটি বাড়িতে। এ সময় বসতঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি মালামাল লুটপাট করা হয় বলেও অভিযোগ। শামসু সরদার গ্রুপের হামলার পরপরই হাবিব হাওলাদার গ্রুপের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে পাল্টা প্রতিরোধ। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুরো এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে।
স্থানীয়রা জানান, ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার কারণে বহু পরিবার আতঙ্কে পালিয়ে যায় ঘর ছেড়ে। খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পুলিশ আসার পর সংঘর্ষকারীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।
তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে মামলা গ্রহণ করে দোষীদের গ্রেপ্তারে চালানো হবে অভিযান।

