চার বছরেও শেষ হয়নি সেতু, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
- বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ
- গত বছর হয়নি কোনো কাজ

ছবি: আগামীর সময়
চার বছরেও শেষ হয়নি জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নান্দিনা-লক্ষীরচর সেতুর নির্মাণ কাজ। ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। সেতুর অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জামালপুর ও শেরপুরের চরাঞ্চলের প্রায় দুই লাখ মানুষ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২২ সালে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, কাজ হয়েছে মাত্র ৫৫ শতাংশ। এখনো ১৫টি স্প্যানের মধ্যে বসানো হয়েছে ৯টি। ১৬টি পিলারের মধ্যে নির্মাণ শেষ হয়েছে ১৩টির। বাকি রয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পিলার ও মাঝখানের স্টিল গার্ডারের কাজ।
সেতু না থাকায় লক্ষ্মীরচর, তুলশীরচরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হচ্ছেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এতে বেড়েছে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবীদের দুর্ভোগ। জরুরি চিকিৎসা নিতে গিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির শঙ্কাও।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছরে দৃশ্যমান নেই কোনো কাজ। নয়টি স্প্যান নির্মাণের পর প্রায় থেমে ছিল কাজ। শ্রমিক সংখ্যাও কম থাকায় বাড়েনি কাজের গতি। দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার দাবি তাদের।
এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ৬০৬ মিটার দীর্ঘ ও ১০ মিটার প্রশস্ত এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। জমি অধিগ্রহণের ব্যয় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়কও নির্মাণের কথা থাকলেও দক্ষিণ পাশের কাজ শুরু হয়নি এখনো। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়েছে ৪৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর এক পাশে কয়েকটি স্প্যান নির্মাণ হলেও মাঝের অংশ এখনো অসম্পূর্ণ। সম্প্রতি জমি খালি করার পর কিছু কাজ শুরু হলেও গতি অনেক ধীর।
আসন্ন বর্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ পিলারের কাজ শেষ না হলে প্রকল্প আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয়দের।
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের প্রকল্প ম্যানেজার মো. জিল্লুর রহমান বলেছেন, চলতি বছরে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়, লাগবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়।
জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রোজদিদ আহম্মেদ জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ এবং চলমান রয়েছে কাজও। তার আশা, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে চলাচলের উপযোগী করা যাবে সেতুটি।



