আগামীর সময়

প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে ওয়ার্ডবয়, ডাটা এন্ট্রিতে আয়া

প্রশাসনিক কর্মকর্তার চেয়ারে ওয়ার্ডবয়, ডাটা এন্ট্রিতে আয়া

ফাইল ছবি

মানহীন সেবা, চিকিৎসক সংকট- আড়াইশ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে এসব অভিযোগ নতুন নয়। এবার মিলল আরেক তথ্য। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেল- প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরে কাজ করছেন ‘ওয়ার্ডবয়’, আর ডাটা এন্ট্রির কাজে বসেছেন ‘আয়া’।

গত জানুয়ারিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কুড়িগ্রামের জেনারেল হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) নিয়োগ পান চারজন। নুসরাত জাহান ও মৌসুমি বেগমকে নেওয়া হয় আয়া হিসেবে। শাহরিয়ার ইসলাম সিয়াম ও আবু তালহা নামে দুজন নিয়োগ পান ওয়ার্ডবয় পদে। 

সোমবার হাসপাতালে গিয়ে নুসরাতকে পাওয়া গেল গাইনী বিভাগের টিকেট বিতরণের কাজে। আর মৌসুমি ব্যস্ত শিশু বিভাগে, ডাটা এন্ট্রির কাজে। হাসপাতালের ২০৭ নম্বর কক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তরে দেখা গেল সিয়াম ও তালহাকে। একজন করছিলেন দাপ্তরিক কাজ, আরেকজন ছিলেন কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে।

নিয়োগের বিধি ভেঙে এই চারজনকে দিয়ে অন্য পদের কাজ করিয়ে নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই। হাসপাতাল রয়ে যাচ্ছে অপরিচ্ছন্ন। মানহীন সেবায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি ওই চারজন। তবে ঘটনা স্বীকার করেছেন কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদ। কারণে হিসেবে তুললেন জনবল সংকটের অভিযোগ।

‘আমাদের হাসপাতালে লোকবল সংকট। তারই মধ্যে দুজনকে আবার বদলি দেয়া হয়েছে। আমরা নানা সংকটের মধ্যে কাজ করে যাচ্ছি। যারা দক্ষ তাদেরকে দাপ্তরিক কাজ করতে দেয়া হয়েছে। তা নাহলে দাপ্তরিক কাজগুলো থেমে যাবে।’

নিয়োগবহির্ভূত কাজ করিয়ে নেয়ার বদলে ওই চারজনকে ‘কোনো বাড়তি সুবিধা দেয়া হচ্ছে না’ বলে দাবি তার।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সাংসদ আতিকুর রহমান মোজাহিদ বললেন, ‘যার যেখানে নিয়োগ তিনি সেখানে কাজ করবেন। এর বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ তা করে, তাহলে তা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

    শেয়ার করুন: